২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯৭ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা) প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেমিট্যান্স ব্যাংকে পরিণত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এই বিষয়টি সামনে এসেছে।
ব্যাংকটির মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে নিরাপদ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন এই অর্জন। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যাংকটির অবদান আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে ডিজিটাল উদ্ভাবনে কৌশলগত বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স করিডোর সম্প্রসারণ এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নত হোস্ট-টু-হোস্ট প্রযুক্তির সংযোগের ফলে প্রধান রেমিট্যান্স-উৎস দেশগুলো থেকে অর্থ প্রেরণের গতি, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংকিং প্রয়োজন মেটাতে ব্র্যাক ব্যাংক নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। এর ফলে এনআরবিরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছেন এবং ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। অন্যদিকে, রেমিট্যান্স গ্রহণকারীদের জন্য দেশব্যাপী ৩১৫টি শাখা ও উপশাখা এবং ১ হাজার ১১৭টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সেবা পৌঁছে দিয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন পূরণে ব্যাংকটি ‘প্রবাসী ভার্চ্যুয়াল সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, ‘প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’, ‘তারা প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’ এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সেবাসহ বিভিন্ন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস প্রদান করছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও সহজে করতে পারছেন।
এই অর্জন প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল বলেন, ‘লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি যে ব্র্যাক ব্যাংকের ওপর তাঁদের আস্থা রেখেছেন—এই মাইলফলক তারই প্রমাণ। বর্তমানে রেমিট্যান্স গ্রাহকেরা শুধু মানি ট্রান্সফার সেবাই নয়, বরং অর্থ প্রেরণে গতি, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও সুবিধাও প্রত্যাশা করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধানের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে কাজ করে যাবে ব্র্যাক। এভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং লাখো পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে ডিজিটাল সক্ষমতা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স ব্যাংক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি।






