গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দুই শিশুসন্তানের সামনেই স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ও মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নাজমুল শেখ (২৮) নামের অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। আজ মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূ (২৫) এবং তাঁর দুই শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে। আহত গৃহবধূকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে নাজমুলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাজমুল ঘরের দরজা বন্ধ করে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলেন। অভিযোগ উঠেছে, ৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তানের সামনেই তিনি স্ত্রীর মাথার চুল কেটে রাতভর নির্যাতন চালান। সকালে গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। এরপর ঘরের তালা ভেঙে গৃহবধূ ও তাঁর সন্তানদের উদ্ধার করা হয় এবং পুলিশ নাজমুলকে আটক করে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী নেশা করে বাড়িতে এসে সামান্য বিষয় নিয়েও আমাকে মারধর করত। সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই সন্তানের সামনে আমার হাত-পা বেঁধে চুল কেটে মারধর করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে আঘাত করে আমাকে জখম করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

অন্যদিকে, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে নাজমুল শেখ দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী চলে যেতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকে তিনি তাঁর হাত-পা বেঁধে ও চুল কেটে রেখেছিলেন।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গৃহবধূ ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধারের পর অভিযুক্ত নাজমুলকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর মুক্তকণ্ঠকে জানান, নাজমুল শেখ মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনের পর নাজমুল প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন।