শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষমতা সংবলিত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বিলটিতে মূলত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার উদ্যোগকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পরিচালন কাঠামো নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
তবে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, বিলটি পাস হলে চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ হবে এবং এটি নজিরবিহীন হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ হলে সাধারণ মানুষ এখনকার মতো সেবা পাবেন না, দরিদ্র মানুষ সেবাবঞ্চিত হবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় আয় বা ব্যবসার জন্য কাজ করলে জনকল্যাণ ক্ষুণ্ণ হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশে স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাই এবং সেখানে তাঁরাই আসেন যাদের সামর্থ্যে কুলায় না। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, লাভজনক কোনো বিষয় যুক্ত করা হলে জনগণের ওপর দায় চাপবে এবং যতটুকু স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে তাতেও বিঘ্ন ঘটবে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দক্ষ, উঁচু মানের একটি হাসপাতাল করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ হাসপাতাল থেকে লাভ হলে তা কেউ বাইরে নিতে পারবে না এবং সরকারের ১০ শতাংশ শেয়ার আছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এটাকে কোম্পানি আইন দিয়ে অধিক বিজ্ঞ এক্সপার্ট লোক এনে আরও ভালো, উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। দরিদ্র মানুষ এখানে যেতে পারবেন না বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটাকে তিনি ঠিক না বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দরিদ্রদের জন্য কোটা থাকবে এবং হাসপাতালকে জনকল্যাণমুখী করা হচ্ছে; এ ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকার কোনো অবকাশ নেই।
এরপর একপর্যায়ে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত হিসেবে চিকিৎসাসেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের অধীনে মুনাফাভিত্তিক বা অমুনাফাভিত্তিক কোম্পানি গঠন করা বা অন্য কোনো আইনের অধীনে দাতব্য কর্মসূচি পরিচালনার লক্ষ্যে কোনো সংগঠন গঠন করা এবং এ ধরনের কাজ থেকে উদ্ভূত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবে। এছাড়া, যেকোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করার ক্ষমতার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবল নিয়োগ না হওয়া এবং পরিচালনার পদ্ধতি সুস্পষ্ট না হওয়ায় হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট পরিচালনা পদ্ধতি ও জনবল নিয়োগ করার জন্য এই হাসপাতালকে কোম্পানি আইনের অধীনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।






