জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, এই আন্দোলনের হাজারো শহীদ, পঙ্গু এবং কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণের কারণে সেই ইতিহাস মুছে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে ‘স্মরণগাথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলো’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, "বহু মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলন অর্জিত হয়েছে; কিন্তু এখন সেই জুলাইকে ছোট করে দেখানোর এবং মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
বাক্স্বাধীনতার নামে অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এনসিপির সদস্যসচিব। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও জুলাইয়ের প্রশ্নে সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "জুলাইয়ে গণহত্যা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। তাঁদের প্রত্যেকের দেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, একসময় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা কল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, কিন্তু জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে সেই ধারণাকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিশুদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যার বিজয়ীদের মাঝে আলোচনা সভা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।






