ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে একটি আলোচনা সভা নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে না পারায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই অব্যবস্থাপনার দায়ভার হিসেবে তিনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ‘স্মরণগাথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। বুধবার বেলা তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে (অডিটোরিয়াম) অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় তা প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামের প্রতি নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু আপনি এখন একটি প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সক্রিয় ছাত্রসংগঠন এখানে কর্মসূচি করছে, অথচ দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই। এটি অবশ্যই প্রশাসনের দায়িত্বের বিষয়।’

পরবর্তীতে ডিনকে উদ্দেশ্য করে তিনি সরাসরি পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আপনি ডিন থেকে পদত্যাগ করুন আজকের এই ঘটনার জন্য। পদত্যাগ করবেন কি না, এটা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় বিদ্যুৎ থাকে না, আপনারা কেন দায়িত্বে আছেন?’

এর জবাবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম জানান, ‘সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চলেছে। পরে জেনারেটরও বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’

এদিকে ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাত সোয়া আটটার দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ১৫ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষদ ভবনে হঠাৎ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট ঘটে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয়। তবে প্রায় চার ঘণ্টা অবিরাম চলার পর জেনারেটরটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে প্রকৌশল দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের সমন্বয়ে সমস্যা সমাধানের কাজ শুরু হয়।

বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠান পরিচালনায় সাময়িক অসুবিধার জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।