দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। একই সঙ্গে নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির জন্য ঋণ সুবিধা দেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়। এসব দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এপিইউবি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। জাতীয় বাজেট নিয়ে পর্যালোচনামূলক এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মান্নান আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নানা অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ থেকে ৫ শতাংশ করা কঠিন ছিল। তারপরও বাজেটে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এই সুযোগ আপনারা কীভাবে কাজে লাগান, সেটি দেখার বিষয়।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সনদ ও মান নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেটা আপনারা দেখবেন। সরকারি গবেষণায়ও আপনারা এগিয়ে আসুন।’

এর আগে সভায় এপিইউবির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সবুর খান বলেন, ‘ভবিষ্যতে ৫ শতাংশ আয়করও তুলে নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরির জন্য জমি ক্রয় করি, বিভিন্ন ভবন বানায়; কিন্তু আমরা কোনো ঋণ পাই না।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘এবারের বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে। আমরা সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে দেখি না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়লে শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাওয়াও কমবে।’

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হবে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জ্ঞান অর্থনীতি। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।

এপিইউবির পক্ষ থেকে নীতিগত অবস্থানপত্রও উপস্থাপন করা হয়। এতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, স্নাতকদের কর্মসংস্থানকে বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নের অন্যতম সূচক হিসেবে গ্রহণ, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার শক্তিশালীকরণ এবং যৌথ পিএইচডি কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করা এবং সরকার-শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় আরও বলা হয়, তিন দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করে উচ্চশিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রাখার ক্ষেত্রেও এ খাতের ভূমিকা রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

স্বাগত বক্তব্য দেন এপিইউবির অনারারি সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন। সভায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সাবেক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, উপাচার্য ও শিক্ষাবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।