আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সব স্তরে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে দ্রুত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

পাশাপাশি বিএনপি এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সকল ইউনিটকে দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সভার সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থায়ী কমিটির সভায় সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, চার্চের ফাদার ও বৌদ্ধমন্দিরের সেবায়েতদের ভাতা কর্মসূচির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের আশা প্রকাশ করা হয়।

সভায় বিরোধী দল কর্তৃক জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। এই বিষয়ে দলীয় অবস্থান জনগণের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ‘সফল’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের সঙ্গে পারস্পরিক উন্নয়ন, সহযোগিতা সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তাদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়।

আন্তর্জাতিক বিষয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দেশ দুটিকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সরকারের প্রতি আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হয়। সভায় আশা প্রকাশ করা হয় যে, এই বিজয় বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সভায় দলের সাবেক দুই নেতা মিজানুর রহমান সিনহা ও হারুন-অর-রশীদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য আলমগীর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশ নেন।