মানিকগঞ্জে সড়কের ঝাঁকুনিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভেতরে পড়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক কিশোর চালককে হত্যার অভিযোগে এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জে পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ (৩৪), তিনি সদর উপজেলার বরুন্ডি এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি সাভারের হেমায়েতপুরে একটি খাবার হোটেলের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, নিহত কিশোর সাকিবুল ইসলাম (১৬) সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন বিকেলে বাবা জ্বরে অসুস্থ থাকায় সাকিবুল তাঁর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনে বের হন। তবে পরদিন সকালে সিঙ্গাইর উপজেলার গোলাই নতুনপাড়া এলাকার একটি পাটখেত থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ ও অটোরিকশা উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর ২ জুলাই সাকিবুলের বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার পরবর্তীতে পায় পিবিআই।

তদন্ত চলাকালীন সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সাভারের যাদুরচর এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ৩০ জুন সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে মিতরা স্ট্যান্ড থেকে গোলাইডাঙ্গা যাওয়ার জন্য ২০০ টাকায় সাকিবুলের অটোরিকশা ভাড়া করেন আসাদ। খানাখন্দে ভরা সড়কের কারণে ঝাঁকুনি হলে তিনি চালককে ধীরে চালাতে বলেন।

একপর্যায়ে ঝাঁকুনিতে অটোরিকশার ভেতরে পড়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সড়কের পাশে কাদায় সাকিবুলের নাক-মুখ চেপে ধরেন। এতে কিশোর চালকের মৃত্যু হয় এবং এরপর আসাদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে আসাদকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।" আজ দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।