কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার হাওর এলাকায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতুসংলগ্ন বগাডুবি খালের কাছে এই वारदातটি ঘটে।
ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে। তিনি আরও একজনকে সাথে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় হাঁসের বাচ্চা কিনতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ করা হয়েছে, বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতুসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরা সাত সদস্যের একটি দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে নৌকার গতি রোধ করে। এরপর নৌকায় থাকা নগদ ৭৫ হাজার টাকা, ২টি মুঠোফোন, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ এবং রান্নার সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা।
নদীতে পাহারার দায়িত্বে থাকা ফুল মিয়া জানান, বগাডুবি খালের দিক থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে আতঙ্কিত অবস্থায় পান এবং তাঁদের বর্শিকুড়া বাজারে নিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা রুমেল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন কয়েকটি নৌকা নিয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করলেও অন্ধকারে তারা এলংজুরী ইউনিয়নের দিকে চলে যাওয়ায় তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, "এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চংনোয়াগাঁও স্লুইসগেট এলাকায় একটি লাশবাহী নৌকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ থাকায় তারা অনুরোধ করলেও ডাকাতেরা তা উপেক্ষা করে অস্ত্রের মুখে লুটপাট চালায়।
গত এক মাসে হাওরে অন্তত তিনটি ডাকাতির ঘটনায় নৌযাত্রী ও মাঝিদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এই এলাকায় নৌ-পুলিশের টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এক মাস আগে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দুটি ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "করিমগঞ্জের বালিখলা ফেরিঘাট, নিকলী বেড়িবাঁধ এবং ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কে তিনটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপনসহ হাওরে ডাকাতি প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
পাশাপাশি তিনি সন্ধ্যার পর হাওরে নৌযাত্রা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।






