নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের তল্লাশিচৌকির সামনেই এক জাপানপ্রবাসী পরিবারের মাইক্রোবাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, তিনটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা লুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের নির্ধারিত জাপান যাত্রা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট বক্স এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আরমান (৪০) ফেনী জেলার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের জাপানে যাওয়ার কথা ছিল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাইক্রোবাসটি মেঘনা টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে ৫–৬ জনের একটি ডাকাত দল লেজার লাইট দিয়ে সংকেত দেখিয়ে গাড়িটি থামায়। মুহূর্তের মধ্যে চাপাতি, ছুরি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা গাড়ির জানালার কাচ ও সাইড মিরর ভাঙচুর শুরু করে এবং যাত্রীদের মারধর করে। পরে ডাকাতেরা গাড়িতে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আরমান বলেন, পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকার বেশি। ঘটনার পর তাঁরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে জাপানে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সময় একই পথে যাওয়া এক মোটরসাইকেল আরোহী প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, তিনি কয়েকজনকে চাপাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহবশত সামনে এগোননি। কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পারেন যে ওই মাইক্রোবাসটিতে ডাকাতি হয়েছে।
এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, ঘটনাটি মূল মহাসড়কে নয়, বরং মহাসড়কের পাশের একটি নিচু সড়কে ঘটেছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থানা–পুলিশের চেকপোস্টের সামনে বলে জেনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






