সরকারি আদেশের তোয়াক্কা না করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ও ক্ষেতলাল উপজেলায় দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এখনো তাঁদের পুরনো কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন। বদলি কার্যকর করার নির্ধারিত সময়সীমা প্রায় দুই মাস আগে পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, গত ৭ মে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) তাসনুভা নাশতারান স্বাক্ষরিত এক আদেশে দেশের আটজন পিআইও-কে বদলি করা হয়। ওই আদেশে পাঁচবিবির পিআইও আবু বক্কার সিদ্দিককে ক্ষেতলাল উপজেলায় এবং ক্ষেতলালের পিআইও ওবায়দুল হককে পাঁচবিবি উপজেলায় স্থলাভিষিক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ১৪ মের মধ্যে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, অন্যথায় ওই দিন থেকেই তাঁরা বর্তমান কর্মস্থল থেকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত’ বলে গণ্য হবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে তাঁদের অবমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে এই আদেশের দুই মাস পার হলেও আবু বক্কার সিদ্দিক পাঁচবিবিতে এবং ওবায়দুল হক ক্ষেতলালে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সরকারি আদেশ অমান্য করে তাঁদের এই অবস্থানে থাকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জয়পুরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বলেন, “সরকারি আদেশ নির্ধারিত সময়ের পরও বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রশ্ন ওঠে। সরকারি আদেশে উল্লিখিত শর্ত বাস্তবে কার্যকর না হলে প্রশাসনিক নির্দেশনার কার্যকারিতা নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।”

বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, “বদলির আদেশ হয়েছে। কিন্তু আমাকে অবমুক্ত করার বিষয়টি জেলা নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে হবে। জুন মাসে কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দ ও সমাপনী কাজ ছিল। আশা করছি, দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারব।” প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন ক্ষেতলালের পিআইও ওবায়দুল হকও।

প্রশাসনিক এই দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বদলির আদেশ বহাল আছে। কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে দ্রুত তাঁদের বদলি করা কর্মস্থলে পাঠানো হবে।”