আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য এমন এক রেফারি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে, যা চলতি বিশ্বকাপের আগের ৯৬টি ম্যাচেও দেখা যায়নি। এই প্রথম কোনো ম্যাচের অন-ফিল্ড ও অফ-ফিল্ড মিলিয়ে পাঁচজন অফিশিয়ালের সবাই একই দেশ থেকে নিয়োগ পেয়েছেন, আর তারা সবাই আর্জেন্টিনার নাগরিক। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ চলাকালেই ফিফা এই অফিশিয়ালদের নাম প্রকাশ করে।

এই সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ফুটবলীয় দ্বৈরথ এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্স ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর পেনাল্টিতে ৪-২ ব্যবধানে জয়ী হয় লিওনেল মেসির দল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট ফিফার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে লিখেছে, গভর্নিং বডির ‘কোনো লজ্জা নেই’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ফ্রান্সের ম্যাচের জন্য সব আর্জেন্টিনার রেফারি। ফিফা আবারও আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপ কারচুপি করার সব চেষ্টা করছে।’ অন্য একজন পোস্ট করেছেন, ‘ফিফা আর এটা লুকায় না। সবাই আর্জেন্টাইন। আপনারা মেসিকে কেন ভিএআর পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসছেন না?’

ম্যাচটিতে মূল রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফাকুন্দো টেলো। উল্লেখ্য, ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন স্বদেশি জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাড। চতুর্থ কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন ক্রিস্টিয়ান নাভারো।

পুরো প্যানেল আর্জেন্টাইন হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে নির্ভার থাকার চেষ্টা করছে ফরাসি শিবির। ডিফেন্ডার দায়ো উপামেকানো বলেন, ‘রেফারি কে হবেন, তার ওপর আমি মনোযোগ দিতে যাচ্ছি না। আমরা এর আগে কখনো এমনটি করিনি, আমরা মরক্কোর দিকেই মনযোগ দিচ্ছি। আমরা যা চাই, তা হলো এই ম্যাচ জেতা, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’