আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে নাটকীয় মোড় নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৩-২ গোলের অভাবনীয় এই জয়ের মাঝে একটি বিশেষ ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। যোগ করা সময়ে মিসরের কোচ হোসাম হাসানকে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দুই হাত আড়াআড়িভাবে উঁচিয়ে একটি সংকেত দিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সংকেতটির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

ম্যাচের সেই মুহূর্তে মাঠ ও ডাগআউট—উভয় জায়গাতেই ছিল চরম উত্তেজনা। রেফারি ও ভিএআরের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন মিসরের কোচিং স্টাফরা। ঠিক সেই সময়েই হোসাম হাসান পায়চারি করতে করতে সহকারী রেফারিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ওই সংকেতটি দেখান। এরপর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে মিসরের ডাগআউটের সামনে এসে হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে কার্ড পাওয়ার সময়ও কোচ দুই হাত আড়াআড়ি করে ‘এক্স’–সদৃশ সংকেত দেখাতে থাকেন।

কবজি বরাবর দুই হাত আড়াআড়ি করে এই ‘এক্স’ সংকেতটি মূলত ফিফার একটি দাপ্তরিক সংকেত। ম্যাচ চলাকালে বর্ণবাদ বা বৈষম্যমূলক আচরণ শনাক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই নিয়ম করা হয়েছে। ফিফার বৈষম্যবিরোধী নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়, কোচ বা কর্মকর্তা যদি বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন, তবে তিনি হাত দুটি আড়াআড়ি করে তুলে এই সংকেতের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারেন যে পরিস্থিতিটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, যাতে অভিযোগকারী অবহেলিত না হন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

২০২৪ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে এই পদক্ষেপ অনুমোদিত হয়। এই সংকেত দিলেই যে ম্যাচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে তা নয়, বরং এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। ফিফার নির্ধারিত এই প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথমত, পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য রেফারি সাময়িকভাবে ম্যাচ স্থগিত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বৈষম্যমূলক আচরণ অব্যাহত থাকলে ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ করে উভয় দলকে মাঠ ছাড়তে বলা হতে পারে। আর চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় ম্যাচটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা যেতে পারে।

ম্যাচের ৯০+২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি করার পর মিসর কোচ এই সংকেতটি ব্যবহার করেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসাম হাসানের দাবি ছিল গোল উদযাপনের সময় বর্ণবাদী গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছে। তবে অকাট্য প্রমাণের অভাবে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ম্যাচ না থামিয়ে মিসর কোচকে হলুদ কার্ড দেখালে ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও ভক্তদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। একদল মনে করছেন পরিস্থিতিটি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল, অন্য দলের মতে নিয়মটি কার্যকর করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি সেখানে ছিল না। ২০২৬ বিশ্বকাপই প্রথম পুরুষ বিশ্বকাপ যেখানে এই অঙ্গভঙ্গি ফিফার অফিশিয়াল নিয়মাবলির অংশ করা হয়েছে। ফলে জাতীয় দলের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির এমন সংকেত ব্যবহারের ঘটনাটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।