বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট উপকূল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ দুজন।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কালাম পাইকার ও শহীদুল ইসলাম। তাঁরা তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা সবাই ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় প্রশাসন ও ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতি জানায়, মঙ্গলবার সকালে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি ট্রলার ইলিশ ধরতে সাগরে যায়। তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে ১৩ এবং আলমগীর খলিফার ট্রলারে ৫ জেলে ছিলেন। রাতে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে প্রথমে একটি ট্রলার ডুবে গেলে এর জেলেরা অন্য ট্রলারে ওঠেন। এরপর দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে যায়। রাত তিনটার দিকে অন্য একটি ট্রলার ১৬ জেলেকে উদ্ধার করে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

স্থানীয় জেলে রাজু মাঝি বলেন, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল আছে। এর মধ্যে আমরা মাছ শিকারের জন্য গতকাল সকালে ১৩টি ট্রলারে করে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করি। একপর্যায়ে ৯টি ট্রলার সাগর থেকে ফিরে আসি; কিন্তু চারটি ট্রলার একসঙ্গে সাগরের দক্ষিণ দিকে চালাতে থাকে। এর মধ্যে একটি ট্রলারে পানি উঠে মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই ট্রলারের পাঁচ জেলেকে দুলাল মাঝির ট্রলার উদ্ধার করে। রাতে তীরে ফেরার পথে ১৮ জেলে নিয়ে দুলাল মাঝির ট্রলারটি ডুবে যায়।’

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গতকাল ১৮ জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়। আজ সকালে ১৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য দুজন এখনো নিখোঁজ। প্রশাসনের পাশাপাশি তাঁদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনো অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ, সাগর এখনো উত্তল রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে বের হব।’

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসার বিষয়ে তাঁরা পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজখবর নিচ্ছেন।