কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর শরণার্থী শিবিরের একটি মহিলা হেফজখানায় দেয়াল ও মাটি ধসে পড়ার ঘটনায় আটজন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে প্রবল বর্ষণের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে ৩০ জন শিশু শিক্ষার্থী ছিল।
আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক ও এডিশনাল ডিআইজি সিরাজ আমিন নিহত চার ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তারা হলেন ৫ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উন্মে নেজাতুল (১৩) ও উন্মে সালমা (১২) এবং মো. ইলিয়াছের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)। বাকি চারজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিন শিশু-কিশোরীকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন ৩ নম্বর ক্যাম্পের দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা বেগম (৯), একই ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) এবং ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৭ ব্লকের বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। চিকিৎসকদের মতে, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন মারা গেছে। বাকি ২২ জনের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাহাড়ের খাদে নির্মিত দেয়াল মাদ্রাসার ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।"
রোহিঙ্গা নেতা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই আশ্রয়শিবিরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। বেলা দুইটার দিকে ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকের মোচরাবাজার এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত মহিলা হেফজখানার ওপর দেয়াল ধসে পড়ে। সে সময় ভেতরে ৩০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছিল। চিৎকার শুনে স্থানীয় রোহিঙ্গারা প্রথমে এগিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে ক্যাম্প প্রশাসন, এপিবিএন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারকাজ শেষ হয়। উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে ভূমিধসের ঘটনায় ওই আশ্রয়শিবিরে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছিল।






