মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ইসরায়েলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। তিনি সেখানে এতটাই ঘৃণিত যে ইসরায়েলের চিরশত্রু ‘আমালেক’-এর তালিকায় তাঁর নাম উঠে এলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ট্রাম্পের প্রতি সেখানে কী পরিমাণ ক্ষোভ কাজ করছে, তার একটি বড় উদাহরণ দেশটির প্রভাবশালী ‘চ্যানেল ১৪’-এর প্রাইমটাইম শোর উপস্থাপক ইনন মাগাল। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি ‘লুজার’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফকে ‘ক্ষুদ্র ইহুদি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াকভ বারদুগো মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প ও তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখন আধুনিক যুগের ‘চেম্বারলেন’-এ পরিণত হচ্ছেন। তিনি তাঁদের ১৯৩৮ সালে হিটলারের প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেনের তোষণনীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ডানপন্থী ‘চ্যানেল ১৪’-এর সঞ্চালক শিমন রিকলিন এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কেউ তার মিত্র হতে চাইবে না।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই বিশ্লেষকদের সুর এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। তাঁরা যাঁর বিষোদ্গার করছেন, তিনি প্রথম মেয়াদে গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অংশ এবং জেরুজালেমকে দেশটির রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। এমন আরও বহু উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
.গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পক্ষে ট্রাম্প শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছেন। অন্যদিকে কুশনার ছিলেন তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মূল পরিকল্পনাকারী।
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান ডেভিড বার্নিয়ার ব্রিফিংয়ের পরেই যে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই। মার্কিন ইতিহাসে কোনো বিদেশি নেতার সিচুয়েশন রুমে প্রবেশের এটিই প্রথম ঘটনা। এর আগে ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রশাসনের এতটা কাছাকাছি আসতে পারেননি। অথচ আজ সেই ট্রাম্পকেই তারা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিচ্ছে।
জায়নবাদের ইতিহাসে অবশ্য এমন ফাটল এটাই প্রথম নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, জায়নবাদীরা বারবারই সেই পরাশক্তির বিরুদ্ধে অবাধ্য হয়েছে, যার ওপর তারা নিজেরা নির্ভরশীল ছিল।
.যেভাবে একের পর এক পরাজয় আড়াল করছেন ট্রাম্প .দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের শিবিরে আড়াই লাখ ইহুদি শরণার্থী আটকে থাকা অবস্থায় ব্রিটেন ফিলিস্তিনে এক লাখ ইহুদির অভিবাসনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর প্রতিবাদে ইহুদি ভূগর্ভস্থ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একজোট হয়। ফলে ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনে ৭৮০ জনের বেশি ব্রিটিশ সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাঁদের বড় অংশকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল ‘ইরগুন’ এবং ‘স্টার্ন গ্যাং’ (লেহি)-এর মতো গোষ্ঠীগুলো।
অথচ এই ব্রিটেনই ১৯১৭ সালের ‘বেলফোর ঘোষণা’র মাধ্যমে ইহুদিদের স্বতন্ত্র বাসভূমির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আরবদের স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে ১৯৪৬ সালের ২২ জুলাই জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে, যা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের সদর দপ্তর। সেই বোমা হামলায় ৯১ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক। আজ পর্যন্ত ইসরায়েল সেই নিহত ব্যক্তিদের কবরকে সম্মান জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও হোটেলে বোমা হামলার নেতৃত্বদাতাদের ঠিকই বীরের মর্যাদা দিয়ে আসছে।
এমনকি হলোকাস্টের সময় চার হাজারের বেশি ইহুদিকে মুক্ত করা সুইডিশ কূটনীতিক কাউন্ট ফোল্কে বার্নাডোটও এই ইহুদি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাননি। ইতিহাসের এই ধারা ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বারবার ফিরে এসেছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসরায়েলকে তাঁর বিদায়ী উপহার হিসেবে ১০ বছর মেয়াদে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছিলেন, যা ছিল মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম প্যাকেজ।
নেতানিয়াহুর আচরণ প্রসঙ্গে ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ আভি শ্লাইম সে সময় ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে লিখেছিলেন, ‘নেতানিয়াহু ওবামার এই উদারতার জবাব দিয়েছেন চরম অকৃতজ্ঞতা দিয়ে। তিনি ওবামাকে আক্রমণ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেননি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে হাত আপনাকে খাওয়ায়, সেই হাতেই কামড় দেওয়ার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর হতে পারে না।’
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছিলেন উদারপন্থী জায়নবাদী। তিনিও একই আচরণের শিকার হন। জেনারেল আমোস গিলাদ লিখেছেন, নেতানিয়াহু যেভাবে বাইডেনকে নজিরবিহীনভাবে তিরস্কার করেছেন, তা চরম অকৃতজ্ঞতা এবং একটি প্রথম সারির কৌশলগত ব্যর্থতা।
.‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ স্বপ্ন যেভাবে ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর জন্য বুমেরাং হলো.অনেকের মতে, আমরা আসলে জায়নবাদের আসল ‘শ্রেষ্ঠত্ববাদী’ রূপটিই এখন উন্মোচিত হতে দেখছি। এমনকি নেতানিয়াহু সরকারের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালনও এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ইয়ালন বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় জায়নবাদী আন্দোলনের একটি অংশ মূলত ‘ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদী আদর্শ’ ধারণ করে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদ আসলে হিটলারের “মাইন কাম্ফ”–এর উল্টো সংস্করণ মাত্র।’
ইহুদি শ্রেষ্ঠত্ববাদের এ ধারণা এখন ইসরায়েলের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের এই বিরোধের আসল কারণ হচ্ছে নতুন ধরনের ধাক্কা। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে যুদ্ধ থামানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। মূলত একটি বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশকেরা যখন টের পায়, অভিভাবকের ওপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে, তখন যে ধাক্কা খায়, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।
একই রকম ধাক্কা খেয়েছিল আলজেরিয়ার ফরাসি উপনিবেশবাদীরাও; তারা ১৯৫৮ সালে চার্লস ডি গলকে ফ্রান্সে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু পরে দেখে যে সেই ফরাসি প্রেসিডেন্টই আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকে সমর্থন করছেন।
অথবা উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইউনিয়নিস্ট সম্প্রদায়ের সেই তীব্র ক্ষোভের কথাই ধরা যাক, যখন ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ইউনিয়নিস্ট প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ‘অ্যাংলো-আইরিশ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।
.ইসরায়েলের ভেতরে যা-ই ঘটুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মার্কিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনকে একেবারে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে বললে ভুল হবে না।
পিউ রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় দলের মধ্যেই ৫০ বছরের কম বয়সী অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। বর্তমানে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৭ শতাংশই ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।
সামগ্রিকভাবে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের এখন ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। আমেরিকায় জনমতের পরিবর্তনের দিকটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
তবে জনমতের এই পরিবর্তন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কতটা অর্থবহ প্রভাব ফেলবে এবং কখন এটি মার্কিন নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
.ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু মূলত ‘জেনোসাইড পুরস্কারের’ যোগ্য .বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাসী ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল নিউইয়র্কে সম্প্রতি ডেমোক্রেটিক পার্টির তিনজন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য পুনর্নির্বাচনে হেরে গেছেন এবং মেয়র জোহরান মামদানি সমর্থিত প্রার্থীরা পাঁচটি স্থানীয় আসনে জয়লাভ করেছেন।
এর পরপরই ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে বড় ধাক্কা দেন আইনজীবী ও পিএইচডি শিক্ষার্থী মেলাত কিরোস। তিনি কলোরাডোর প্রথম সংসদীয় আসন থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী ঘোষিত হন।
কিরোস যাঁকে হারিয়ে দেন, সেই ডায়ানা ডিগেট ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ থেকে ১৬ লাখ ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছিলেন।
‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস-অ্যাকশন’ এই ফলাফল প্রসঙ্গে বলেছে, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে ‘আইপ্যাক’ এখন একটি ‘বিষাক্ত ব্র্যান্ড’-এ পরিণত হয়েছে এবং সাধারণ ডেমোক্র্যাট ভোটাররা এখন আর সেই আইনপ্রণেতাদের দেখতে চান না, যাঁরা গণহত্যাকে সমর্থন বা রক্ষা করেন।
কিন্তু এই ফলাফল কি আসলেই ফিলিস্তিনের পক্ষে কোনো বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে, নাকি এটি আইপ্যাকের সমর্থন ছাড়াই উদারপন্থী জায়নবাদীদের ডেমোক্রেটিক পার্টিতে টিকিয়ে রাখার একটি প্রক্রিয়া মাত্র? দলটি কি আসলে ‘নেতানিয়াহু-পরবর্তী’ যুগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যখন ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন আবার আগের মতোই প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিক রূপ পাবে?
.এখানে জয়ী ব্যক্তিদের একজন হচ্ছেন ব্র্যাড ল্যান্ডার। মামদানিকে সমর্থন করার আগে নিউইয়র্কের মেয়র পদের দৌড়ে থাকা ল্যান্ডার অতীতে ইসরায়েলবিরোধী ‘বিডিএস’ আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির হিসাবরক্ষক থাকাকালে তিনি ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমে শহরের পেনশন ফান্ডের বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। নিজেকে তিনি একজন ‘উদারপন্থী জায়নবাদী’ হিসেবেই পরিচয় দেন।
স্টকটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাজিয়া কাজী মিডল ইস্ট আইকে বলেন, যখন ফিলিস্তিনের সমর্থনে আন্দোলনকারীদের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু অংশ ল্যান্ডারের মতো একজন প্রার্থীকে উদ্যাপন করছে, এটি আন্দোলনের পিঠে এক বড় ছুরিকাঘাতের মতো।
কিরোসের বিজয়ের পর, ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক্সে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ‘বাতাসের গতি পরিবর্তন হচ্ছে। আমেরিকানরা এখন স্থবির রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়।’
মামদানি নিজে বলেছেন, এটি ছিল শ্রমজীবী মানুষের বিজয়। এটি গত বছরের একটি জরিপের ফলাফলকেই সমর্থন করে, যেখানে দেখা গিয়েছিল, মার্কিন ভোটাররা মূলত ঘরোয়া অর্থনৈতিক সমস্যা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো দেখেই ভোট দিচ্ছেন।
তবে বিজয়ী প্রার্থীরা তাঁদের বক্তৃতায় ঘরোয়া সমস্যা এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিকে একই সুতোয় গেঁথে উপস্থাপন করেছেন।
.‘ইউএস/মিডল ইস্ট প্রজেক্ট’-এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল লেভির মতো ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনর্মূল্যায়নের এই যাত্রা অত্যন্ত দীর্ঘ এবং আমেরিকা কেবল এর সূচনালগ্নে রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি লবির শক্তিশালী চাপ, আমাদের নিজেদের পক্ষের ভুল করার প্রবণতা এবং এই পরিবর্তনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো অনেক সময় লাগবে।
তা সত্ত্বেও মার্কিন জনমতে যে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো, ফিলিস্তিন ইস্যুটি এখন রাজনীতির প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে এসে মার্কিন রাজনীতির মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছে।
একসময় যা বামপন্থীদের একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা কিংবা ‘ইসলামপন্থা’ বা ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর তকমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হতো, তা এখন মার্কিন রাজনৈতিক মহলের সব স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
.এমনকি মার্কিন ডানপন্থীদের একটি অংশও এখন ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় বোঝা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। ইসরায়েল থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখাকে অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুণ্ন হওয়া বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি উপায় হিসেবে দেখছেন।
তবে ফিলিস্তিন ইস্যু মূলধারায় চলে এলেও এর বিতর্কের চারপাশে নতুন কিছু অদৃশ্য দেয়াল বা সীমাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে আইপ্যাকের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ, তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের মৌলিক বিষয়গুলো এখনো মার্কিন নীতিনির্ধারণী মহলের ‘ভদ্র ও গ্রহণযোগ্য’ বিতর্কের কাঠামোর বাইরেই থেকে গেছে।
নেতানিয়াহু বা তাঁর পরে যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থীদের কাছে ইসরায়েলকে পুনরায় আগের মতো গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা মোটেও সহজ হবে না। ইরানের বিষয়ে সুবিধা করতে না পেরে নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপ হতে পারে গাজাকে পুরোপুরি পুনর্দখল করার জন্য নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা। কিন্তু গাজায় নতুন করে যেকোনো ধরনের রক্তপাত যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যেই তীব্র ঘৃণার উদ্রেক করবে।
ডেভিড হার্স্ট মিডল ইস্ট আইয়ের প্রধান সম্পাদক। মিডল ইস্ট আই থেকে অনূদিত।






