আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তখন ১৯ মিনিটের খেলা চলছে। স্কোরবোর্ডে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ আসে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরার। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে লিওনেল মেসির নেওয়া সেই শট রুখে দেন মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। পেনাল্টি মিসের সেই মুহূর্তে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে নিজের সেই মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’
মাঠের লড়াইয়ে এক পর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। দলের এই জয়ে মেসি নিজে এক গোল করার পাশাপাশি অন্য একটি গোলে সহায়তা করেন। তবে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ যেন জয়ের আনন্দের মাঝেও রয়ে গেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পর মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম আর্জেন্টিনা ২ বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল। দলের এমন হার না মানা মানসিকতা নিয়ে গর্বিত মেসি। তিনি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আর আমি এটা জানি কারণ আমি ওদের চিনি, আমি জানি ওরা কীভাবে কাজ করে। এই গ্রুপটি লড়াই করতে বা বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটাও আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়; আমরা যেকোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করব।’
এদিকে ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মিসর। তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং আর্জেন্টিনার গোল বহাল রাখার বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।






