গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ১৪ বছর আগে আট বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির দণ্ড ঘোষণা করেছে আদালত। এর মধ্যে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এই রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন মাহমুদা খানম ও বিল্লাল শেখ। দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর শিশুটির পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে মুক্তিপণ না পেয়ে ওই বছরের ২০ আগস্ট মাহমুদার বাড়িতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মরদেহটি তাদের বাড়ির পাশের একটি মেহগনিবাগানে ফেলে রাখা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পর মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর পুলিশ এই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

২০১৩ সালে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তরিত হয় এবং ২০১৪ সালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৩ জন এবং আসামিপক্ষের ৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।