রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণ এবং টেকসই নগর উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মধ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ডিএনসিসি প্রশাসকের কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জাইকা বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঢাকার নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে জাইকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ঢাকা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
জাইকার প্রতিনিধিরা ডিএনসিসির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বিশেষ করে ঢাকার নগর উন্নয়নে জাইকার কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নাগরিক সেবা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় ‘ক্লিন ঢাকা মাস্টার প্ল্যান’ (২০১৮-২০৩২) এবং চলমান বর্জ্য হ্রাস ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়তা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ তাকাহাশি জুনকো জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি সরবরাহ, ওয়ার্কশপ নির্মাণ, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণে কারিগরি সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
জাইকার প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধি হিদেকি ওসাওয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিশেষজ্ঞ মাতসুকুরা ইউ। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই জাইকার প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিকো ডিএনসিসির দুটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি জাইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত আধুনিক জাপানি প্রযুক্তি ‘জে-ড্রাম’ ঘুরে দেখেন। সময়, শ্রম ও জায়গাসাশ্রয়ী এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আরও বিভিন্ন এলাকায় এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের আশার কথা জানান।






