ভিন্নমত প্রকাশের কারণে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার নারীদের প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রকাশ্য পরিসরে ধর্ষণের হুমকি এবং অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

মঙ্গলবার সংগঠনের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানুর এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা যাচ্ছে, ভিন্ন মত প্রকাশ করলেই প্রকাশ্যে নারীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নারী সাংবাদিকদের ‘দালাল’, ‘দেশবিরোধী’সহ নানা অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণে নারীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল, যৌন হয়রানিমূলক ও চরিত্রহননমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য নারী ও মানবাধিকারকর্মীরাও একই ধরনের বিদ্বেষ, হুমকি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন। এমনকি জাতীয় সংসদের মতো সর্বোচ্চ আইনসভায়ও নারী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আপত্তিকর ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কেবল নারীর মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, এটি সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের চেতনার সুস্পষ্ট অবমাননা।"

একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভয়ভীতি, হামলা ও সহিংসতার ঘটনাগুলোও উদ্বেগজনক বলে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "হত্যা, হত্যার হুমকি, জোরপূর্বক জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীন পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা প্রমাণ করে ঘৃণার রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক উসকানি সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব ঘটনায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।"

এই ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ দাবি করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "ভিন্নমত, নারীর স্বাধীন কণ্ঠ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবদমিত করে রাখার চেষ্টা একটি বিপজ্জনক প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ। ঘৃণ্য বক্তব্য, সহিংসতার উসকানির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নীরবতা বা বিলম্বিত পদক্ষেপ অপরাধীদের উৎসাহিত করে।"