বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আরও এক দফা কমানো হয়েছে। এবার প্রতি লিটারে দাম কমেছে ১৯ টাকা ২২ পয়সা। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের এই নতুন দর ঘোষণা করেছে। আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হবে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫০ টাকা ২১ পয়সা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ০.৯৮০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ০.৮৫৫৬ ডলার করা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মে মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করায় দেশেও এর প্রভাব পড়ছে। এর আগে গত মাসে জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা কমানো হয়েছিল। তার আগের মাসে দুই দফায় কমেছিল ৬১ টাকা ১২ পয়সা। তবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা শুরুর পর গত মার্চে দুই দফায় ১০৭ টাকা এবং এপ্রিলে এক দফায় ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা দাম বেড়েছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই জ্বালানির দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করলে জ্বালানি সমৃদ্ধ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের হামলায় জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে দাম পুনরায় কমতে শুরু করেছে।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিধান বাতিল করার পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১ ফুয়েলের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে প্রদান করে। সেই প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি এবং এরপর থেকে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।






