আগামীকাল রোনালদো-মদরিচের দেখা হয়ে যাচ্ছে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার শেষ ৩২–এর ম্যাচে। এটাই হয়তো বড় কোনো মঞ্চে তাঁদের শেষ দেখা!
.৪০ পেরিয়ে যাওয়া দুজন মধ্যবয়সী বন্ধুর কোথায় দেখা হতে পারে? নয়টা-পাঁচটা অফিস করলে হয়তো হঠাৎ রাস্তায়, অফিস অঞ্চলে। অথবা স্কুল বা কলেজের কোনো পুনর্মিলনীতে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচ যদি সময়কে থামিয়ে না দিতেন, তাহলে এই দুই ফুটবলারের হয়তো দেখা হতো বার্নাব্যুর কোনো এক স্বর্ণালি সন্ধ্যায়। কিন্তু তাঁরা তো অজর, চল্লিশ পেরিয়েও তরুণ! আগামীকাল তাই তাঁদের দেখা হয়ে যাচ্ছে ফুটবল মাঠে, পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে। কে জানে, এটাই হয়তো বড় কোনো মঞ্চে তাঁদের শেষ দেখা!
৪০ পেরোনো দুই ফুটবলারের বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে কখনোই দেখা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, দুজন কি দলের হয়ে আগের মতো অবদান রাখতে পারছেন?
পুরোপুরি না পারলেও দুজনই এর উত্তর কিছুটা দিয়েছেন এই বিশ্বকাপে। কঙ্গোর বিপক্ষে নিষ্ফলা এক ম্যাচের পর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোলে রোনালদো হয়েছিলেন ছয় বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার। ম্যাচ শেষে তাঁর প্রথম কথাই ছিল, ‘আই অ্যাম ব্যাক।’
.কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর অবশ্য আবারও রোনালদোকে নিয়ে প্রশ্নটা ফিরে এসেছে। উজবেকিস্তান ম্যাচের পর তো রোনালদোই মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁকে নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন ওঠার কথা, ‘২৩ বছর ধরে ফুটবল খেলছি। যখন সময় ভালো যায় না, তখনই বলা হয় ক্রিস্টিয়ানোর সময় শেষ। ও বুড়ো হয়ে গেছে।’
.মদরিচ অবশ্য তেমন কিছু বলেননি। ইংল্যান্ড বা পানামার ম্যাচে যদি তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্নও ওঠে, তার কিছুটা জবাব মদরিচ দিয়েছেন ঘানার বিপক্ষে পুরোনো ঝলক দেখিয়ে। রোনালদো তাই পর্তুগালের জন্য যতটা, মদরিচ ক্রোয়েশিয়ার জন্য তার চেয়ে কম কিছু নয়। একটা জায়গায় অবশ্য মদরিচ রোনালদোর আরেকটা কীর্তিরও পাশে বসেছেন। পানামার ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর ২০০তম ম্যাচ। দেশের হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক রোনালদো আর মদরিচ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলে আছে মাত্র দুজনের।
.রোনালদো-মদরিচের জাতীয় দলের জার্সিতে বিশ্বকাপে এটাই হবে প্রথম দেখা। ম্যাচের আগে দুই অধিনায়কের করমর্দনের সময় নিশ্চয়ই রিয়াল মাদ্রিদে আট বছরের অনেক স্মৃতি ভেসে উঠবে তাঁদের মনে। পুরোনো সতীর্থকে অনেকবারই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন মদরিচ, বলেছেন রোনালদোই তাঁর দেখা সেরা ফুটবলার। রোনালদোও গত বছর মদরিচের রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর আবেগঘন এক পোস্ট দিয়েছিলেন মদরিচকে নিয়ে। শুভকামনা জানিয়েছিলেন পুরোনো সতীর্থকে।
.কিন্তু দুজনেই জানেন, এবার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে একজনকে। রোনালদো গত বিশ্বকাপেও কেঁদেছিলেন, সেবার বেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছিল মরক্কোর কাছে পর্তুগালের বিদায়। ম্যাচ শেষে টানেলে রোনালদোর সেই কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল সবাইকে।
কেউ কেউ তো পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর শেষের কবিতাও লিখে ফেলেছিলেন সেদিন। কিন্তু রোনালদো বিদায় বলেননি। ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবে গিয়েও গোলের পর গোল করে গেছেন। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করে জানান দিয়েছেন, দলে তিনি এখনো যৌক্তিক কারণেই ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে প্রথম পছন্দ।
.কাতারে আর্জেন্টিনার কাছে সেমিতে হারের পর চোখের জল ফেলেননি মদরিচ। বরং বলেছিলেন, অন্তত এক বছর খেলা চালিয়ে যেতে চান। সেটা যে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্তও গড়াবে, তা হয়তো তিনিও ভাবেননি তখন।
কিন্তু মদরিচ তো মদরিচই। রোনালদোর মতোই যিনি থামিয়ে দিয়েছেন সময়ের ঘড়ি।






