রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হতে পারেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ইনুর বিরুদ্ধে যে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে তিনি শাপলা চত্বরের মামলায় আসামি হতে পারেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলার রায়ে গত মঙ্গলবার হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আজ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ইনু তথ্যমন্ত্রী থাকার সময় (২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে) হেফাজতের এ ঘটনা সংঘটিত হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের লাইভ টেলিকাস্ট বন্ধ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই রাতে ইসলামিক টেলিভিশনের অফিস ভাঙচুর করা হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই একই রাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই দুটি টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার পুরো আমলে ওই দুটি টেলিভিশন বন্ধ ছিল।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তখন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে ইনু এই শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য এবং আলামত নষ্ট করার জন্য দুটি টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করেন। এভাবে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইনুর সহযোগিতা ছিল। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগির দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার আছেন।

মামলার অপর আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ পলাতক।

এর আগে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে এখন পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ৫৮ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।