ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতালে গত ৪৩ বছরে ৫ লাখ বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছে। এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে চেন্নাইয়ের হায়াত রিজেন্সি হোটেলের কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের অর্ধশত রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

অ্যাপোলো চেন্নাই হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিন ভি বলেন, বাংলাদেশে অ্যাপোলোর ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে তথ্যকেন্দ্র চালু আছে এবং সিলেটে নতুন শাখা চালু হবে। এসব অফিস থেকে রোগীরা বিনা মূল্যে ভিসা প্রসেসিং ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া দ্রুত একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রোগীরা দেশেই বসে সরাসরি চেন্নাইয়ের চিকিৎসকদের কাছ থেকে মতামত নিতে পারবেন।

অ্যাপোলো হাসপাতালের আঞ্চলিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলেন কুমারান বলেন, ‘এই ৫ লাখের মাইলফলক মূলত একটি গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা আলাদা হলেও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীতের সুর আমাদের এক সুতায় বেঁধেছে।’

লিভার বিশেষজ্ঞ ইলেন কুমারান বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কারণে রোগীরা এখানে এসে নিজেদের বাড়ির মতো সুযোগ ও আত্মবিশ্বাস পান। চিকিৎসার পর রোগীরা যাতে নিজের দেশেই ফলোআপ করতে পারেন, সে জন্য আমরা বাংলাদেশে মাল্টিপল ক্লিনিক করার পরিকল্পনা চলছে।’

অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. আলিমুজ্জামানের পক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দেন দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক। তিনি বলেন, ৫ লাখের এই সংখ্যাটিই প্রমাণ করে রোগীরা এখানে এসে কেমন সেবা পাচ্ছেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাইয়ে আসা বাংলাদেশি নাগরিককে যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

অ্যাপোলো হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরু প্রসাদ বলেন, ‘বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধার্থে এবং তাদের ফলোআপ সহজ করতে আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেস্কের ইনচার্জ সানজিৎ নায়েকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাপোলো হাসপাতালের বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দ রিফাত ফারুক। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ করতে ভবিষ্যতে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে টেলি-রেডিওলজি সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।