জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনায় করা একটি মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং চিকিৎসক নেতা সামির হোসেন কারামুক্ত হয়েছেন। আজ সোমবার তিনি বগুড়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর আগে গতকাল রোববার বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৫-এ সামির হোসেনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। আদালতের বিচারক কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকার গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। সেই আদেশের নথি আজ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

সামির হোসেনের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় আদালত জামিনের আদেশ দিলেও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নথি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় সামির হোসেন মুক্তি পাননি। আজ তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

বগুড়া কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. আসাদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসক সামির হোসেনের জামিনের নথি আদালত থেকে গতকাল রাত ১০টার দিকে কারাগারে পৌঁছায়। দেরি হওয়ায় গতকাল তাঁকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। আজ বেলা ১১টার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেলে স্থানীয় যুবদলের নেতা–কর্মীরা মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে গত বছরের অক্টোবরে করা একটি মামলায় সামির হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সামির হোসেন বগুড়া মহানগরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় তিনি বগুড়া সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর তাঁকে বাগেরহাট সরকারি মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) প্রশিক্ষক পদে বদলি করা হয়। স্থানীয়ভাবে তিনি দরিদ্র রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে পরিচিত।