মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বসতবাড়িতে ‘পছন্দের কক্ষে’ থাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সুলতান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী ফয়াজ মিয়ার (২৭) বিরুদ্ধে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুলতান আলীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে বাবার লাশ রেখে ফয়াজ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনায় শনিবার রাতে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
নিহত সুলতান আলীর বাড়ি উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের মন্ত্রীগাঁও গ্রামে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। তাঁদের ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে তিন ছেলে আলাদা বাড়িতে থাকেন। ফয়াজ সবার ছোট।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন ফয়াজ। দুই মাসের ছুটিতে ২৪ জুন তিনি দেশে ফেরেন। ২৬ জুন রাতে বাড়ির একটি পছন্দের কক্ষে থাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফয়াজ উত্তেজিত হয়ে কাঠ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি কুড়াল দিয়ে বাবার মাথার পেছনে কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতির সময় কাউকে কিছু না জানিয়ে ফয়াজ হাসপাতাল থেকে চলে যান। খবর পেয়ে শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুলতান আলীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহত সুলতান আলীর বড় ছেলে সাহেদ মিয়া (৪৫) বাদী হয়ে ফয়াজ মিয়াকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ফয়াজ মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম আজ রোববার সকালে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহত সুলতান আলীর মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে। আসামি ফয়াজ পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চলছে।






