সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় শুভংকর দাস (২০) নামের এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শুভংকর দাসের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর এলাকায়। আজ মঙ্গলবার সকালে শুভংকরের স্বজনেরা মুক্তকণ্ঠকে তাঁর মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
শুভংকরের বড় ভাই অন্তর দাস বলেন, গত বছর তাঁর ছোট ভাই এইচএসসি পাস করেন। আর্থিক সংকটের কারণে এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনতে এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি গত বছর সৌদি আরবে যান। সে সময় বিদেশ যেতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করতে হয়। জেদ্দায় একটি খাবার সরবরাহকারী কোম্পানিতে কাজ করতেন তাঁর ভাই। নিজেই বাইক চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে কোম্পানির মালামাল পৌঁছে দিতেন। গত রোববার রাত দুইটার দিকে একটি স্থানে মালামাল পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তাঁর মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্তর দাস জানান, ভাইয়ের লাশ দেশে আনতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের সবাই শোকাহত ও বাক্রুদ্ধ। তাঁর আয়েই সংসার চলত। এখন সংসারের খরচ কে দেবে এবং ঋণের টাকা কীভাবে শোধ হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকার কথা জানান তিনি।
শুভংকরের বাবা গৌতম দাস বলেন, ‘অনেক টেয়া ধার কইরা ছেলেডারে বিদেশ পাঠাইলাম। বিদেশ থেইকা যেই টেয়া পাঠাইত, সেই টেয়ায় সংসার চলত। আমার থাকার একটি ঘর ছাড়া আর কোনো সম্পদ নাই। দুই ছেলেই আমার সম্পদ। ছোট ছেলেটা দুর্ঘটনায় মইরা গেল। আমার সব শেষ। ছেলে ছাড়া আমি ক্যামনে বাঁচুম, ক্যামনে সংসার চলব? ছেলে তো মরলই, শেষবারের মতো তাঁর মুখটা দেখতে চাই। আমার কাছে আমার ছেলেরে আইন্না দেও।’
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, সৌদিতে দুর্ঘটনায় ওই তরুণের মৃত্যুর খবর তিনি জেনেছেন। বিদেশ থেকে লাশ আনা এবং দেশে আনার পর দাফন–সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।






