সরকারের বা কোনো প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ে কেন তার প্রতিফলন দেখা যায় না, এর উদাহরণ হতে পারে এ ঘটনা। কোরবানির বর্জ্য যাতে দ্রুত অপসারণ করা হয়, সে জন্য এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২৭৫টি পিকআপ ভাড়া নিয়েছিল। এর সঙ্গে উত্তর সিটির নিজস্ব বাহন (বর্জ্য সংগ্রহের জন্য) ছিল ৭৫২টি।
কিন্তু ঈদুল আজহার (গত ২৮ মে) এক দিন পরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে ছিল। এমনটি কেন ঘটল? ভাড়া করা সব পিকআপ কি ঈদের দিন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ করেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে মুক্তকণ্ঠ।
ভাড়া করা পিকআপগুলোর মধ্যে সিটি করপোরেশনের কোন অঞ্চলের কোন ওয়ার্ডে কোনটি কাজ করবে, তা ঈদের আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী, উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ড ১০টি অঞ্চলের অধীন। অঞ্চলভেদে পিকআপ বরাদ্দের তালিকাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করে রেখেছিল করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এর মধ্যে চারটি অঞ্চলের (মোট ৩৪টি ওয়ার্ড রয়েছে) জন্য বরাদ্দ করা তালিকায় পিকআপচালকদের নাম ও মুঠোফোন নম্বর রয়েছে।
.এই চার অঞ্চলে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ ও পরিবহনের কাজ ২০৪টি পিকআপের মাধ্যমে হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে অঞ্চল–২ ও ৪–এর বরাদ্দ তালিকায় ৯০ জন পিকআপচালকের নাম ও মুঠোফোন নম্বর রয়েছে। সবার মুঠোফোন নম্বরে ৫, ৬ ও ৭ জুন একাধিকবার যোগাযোগ করেছে মুক্তকণ্ঠ। এর মধ্যে ৩৫টি নম্বর বন্ধ, ১৭টি নম্বর সঠিক নয় আর ১৫টি নম্বরে ফোন করার পর সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর বলেছে, এসব নম্বর এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না।
বাকি ২৩টি মুঠোফোন নম্বরের মধ্যে ৫টি নম্বর সাময়িকভাবে ‘ব্লক’ রয়েছে। তিনটি মুঠোফোন নম্বরে সংযোগ যায় না। ফোন ধরেননি তিনটি নম্বরের ব্যবহারকারীরা। ১২ জনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা গেছে। তবে তাঁদের একজনও পিকআপচালক নন। এমনকি তালিকায় যে নাম উল্লেখ রয়েছে, সেই নামের ব্যক্তিও তাঁরা নন। যদিও মুঠোফোন নম্বর একই। এই ১২ জনের মধ্যে ৬ জন নারী।
.মোস্তফা আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে থাকেন তিনি। পিকআপ দূরের কথা, মোটরসাইকেলও চালাতে পারেন না। কৃষিকাজ করেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বর কীভাবে সিটি করপোরেশনের নথিতে উঠল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।.
সিটি করপোরেশনের তালিকা অনুযায়ী, ঈদের দিন ঢাকা উত্তর সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে (অঞ্চল-৪) বর্জ্য পরিবহন করার কথা পিকআপচালক মো. ইলিয়াসের। তালিকায় এই নামের সঙ্গে মুঠোফোন নম্বরও রয়েছে। এই মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে যে ব্যক্তি কথা বলেন, তাঁর নাম মোস্তফা আলী।
মোস্তফা আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে থাকেন তিনি। পিকআপ দূরের কথা, মোটরসাইকেলও চালাতে পারেন না। কৃষিকাজ করেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বর কীভাবে সিটি করপোরেশনের নথিতে উঠল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
তালিকা অনুযায়ী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পিকআপচালক হিসেবে কাজ করার কথা ইব্রাহীম ফরাজী নামের এক ব্যক্তির। তাঁর নামের সঙ্গে যে মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে, সেখানে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন এক নারী। তাঁর বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। ইব্রাহীম ফরাজী নামের কাউকে তিনি চেনেন না বলে জানান।
ওই নারীকে পুরো ঘটনা বলা হলে তিনি বলেন, ‘যারা আমার ফোন নম্বর তালিকায় দিয়েছে, তাদের ধরেন। তারা বলতে পারবে এই নম্বর কীভাবে তালিকায় ঢুকেছে।’
.৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকায় থাকা পিকআপচালক রাকিব মাতব্বরের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কথা বলেন আরেক নারী, তাঁর বাড়ি রংপুরে।.
সিটি করপোরেশনের তালিকায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পিকআপচালক হিসেবে লাদেন মিয়ার নাম ও মুঠোফোন নম্বর রয়েছে। ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে যে ব্যক্তি কথা বলেন, তাঁর নাম আনোয়ার হোসেন। তিনি গাজীপুরে থাকেন। এলাকায় ব্যবসা করেন। কীভাবে তাঁর মুঠোফোন নম্বর সিটি করপোরেশনের ভাড়া করা পিকআপচালকদের তালিকায় ঢুকল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
একইভাবে তালিকায় থাকা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পিকআপচালক হাফিজুলের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন এক নারী, যাঁর বাড়ি নেত্রকোনা।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকায় থাকা পিকআপচালক রাকিব মাতব্বরের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কথা বলেন আরেক নারী, তাঁর বাড়ি রংপুরে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা অন্য সাতজনও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিটি করপোরেশনের করা পিকআপচালকদের তালিকায় তাঁদের মুঠোফোন নম্বর যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, ঈদের দিন বর্জ্য সংগ্রহের কাজে ভাড়া করা প্রতিটি পিকআপের জন্য ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।
কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কোনো ঠিকাদারকে এখনো বিল দেওয়া হয়নি বলে জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বর্জ্য অপসারণের কাজে চুক্তি অনুযায়ী, ঠিকাদার যদি সব পিকআপ ব্যবহার না করেন এবং অন্য কোনো অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.ঢাকা উত্তর সিটির অঞ্চল-২ ও ৪–এ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য ভাড়ায় পিকআপ সরবরাহ এবং অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের কাজটি পেয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিমি কনস্ট্রাকশন। উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সব পিকআপ সরবরাহ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার (অপারেশন) হাসান আহমেদ।
করপোরেশনের কাছে জমা দেওয়া পিকআপচালকদের নাম ও মুঠোফোন যাচাই করে দেখা গেছে, তা সঠিক নয়—এমন প্রশ্নে হাসান আহমেদ বলেন, এ রকম হওয়ার কথা নয়।
অবশ্য হাসান আহমেদ যে দাবি করেছেন, এর সত্যতা মাঠপর্যায়ে যাচাই করে পাওয়া যায়নি। অঞ্চল-২ ও ৪–এর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের (ভ্যান সার্ভিস নামে পরিচিত) মালিকের সঙ্গে কথা বলেছে মুক্তকণ্ঠ। এর বাইরে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করা তিনজন ভ্যানকর্মীর সঙ্গেও মুক্তকণ্ঠ কথা বলেছে। এর মধ্যে মিরপুর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করা ভ্যান সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু সায়েম মুক্তকণ্ঠকে জানান, ঈদের আগের দিন বিকেলে তিনি জানতে পারেন, প্রশাসকের পক্ষ থেকে পিকআপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকে পিকআপের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি পিকআপ আসে।
.আমরা ঈদের আগের দিন চেষ্টা করেছি (তালিকা অনুযায়ী) সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার—একটাও মেলে (মুঠোফোন নম্বর) না ভাই। পরে ঠিকাদার বলছিল, গাড়ি টাইমমতো পাইয়া যাইবেন।উত্তর সিটির অঞ্চল-২–এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ
আবু সায়েম বলেন, ওই পিকআপে শুধু চালক ছিলেন। কোনো শ্রমিক ছিলেন না। যদিও সিটি করপোরেশন থেকে বলা হয়েছিল, প্রতিটি পিকআপের সঙ্গে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করার জন্য তিনজন শ্রমিক থাকবেন; কিন্তু একজনও আসেননি।
অন্য চারজন ভ্যান সার্ভিসের মালিক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঈদের দিন সিটি করপোরেশন থেকে ভাড়া করা কোনো পিকআপ আসেনি।
.উত্তর সিটির অঞ্চল-২–এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ঈদের আগের দিন চেষ্টা করেছি (তালিকা অনুযায়ী) সবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার—একটাও মেলে (মুঠোফোন নম্বর) না ভাই। পরে ঠিকাদার বলছিল, গাড়ি টাইমমতো পাইয়া যাইবেন।’
এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের তিনটি প্যাকেজে ঠিকাদারের মাধ্যমে যানবাহন ভাড়া ও কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল উত্তর সিটি। অঞ্চল-১ ও ৬-১০–এ বর্জ্য অপসারণের কাজ পায় রাকিব এন্টারপ্রাইজ। অঞ্চল-২ ও ৪–এ কাজটি পায় রিমি কনস্ট্রাকশন, অঞ্চল-৩ ও ৫–এ কাজটি পায় ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেড।
.৫৭টি মুঠোফোন নম্বরের মধ্যে ৩৫ জন চালক বলেছেন, তাঁরা ঈদের দিন কাজ করেছেন। ১৫টি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি, তবে নম্বরগুলো সচল আছে। আর সাতটি মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।.
সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্র জানায়, তিনটি প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রাকিব এন্টারপ্রাইজের চুক্তিমূল্য ৩২ লাখ টাকা, রিমি কনস্ট্রাকশনের চুক্তিমূল্য ৪৫ লাখ টাকা ও প্যাসিফিকের চুক্তিমূল্য ছিল ৫৪ লাখ টাকা।
সিটি করপোরেশনের নথিতে অঞ্চল-১ এবং ৬-১০–এর তালিকায় শুধু পিকআপের নিবন্ধন নম্বর ছিল, চালকের নাম ও মুঠোফোন নম্বর ছিল না। এই ছয় অঞ্চলে কাজ করার কথা ৭১টি পিকআপের। অঞ্চল-৩ ও ৫–এর জন্য ঈদের দিন ১১৪টি পিকআপ বরাদ্দ ছিল। এই দুটি অঞ্চলের তালিকায় পিকআপচালকের নাম ও মুঠোফোন নম্বর ছিল। এর মধ্যে অঞ্চল-৩–এর ২৭টি এবং অঞ্চল-৫–এর তালিকার ৩০টি মুঠোফোন নম্বর যাচাই করেছে মুক্তকণ্ঠ। মোট ৫৭টি মুঠোফোন নম্বরের মধ্যে ৩৫ জন চালক বলেছেন, তাঁরা ঈদের দিন কাজ করেছেন। ১৫টি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি, তবে নম্বরগুলো সচল আছে। আর সাতটি মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
.ঈদের পরদিন ২৯ মে দুপুর ১২টা ২ মিনিটে মুক্তকণ্ঠ অনলাইনে ‘কথা রাখেনি ঢাকার দুই সিটি, ১২ ঘণ্টা পরেও পড়ে আছে বর্জ্য’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদের পরদিন সকালে উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়ক, অলিগলিতে কোরবানির বর্জ্য পড়ে ছিল। দক্ষিণ সিটিতেও একই অবস্থা দেখা যায়। যদিও ঢাকা উত্তর সিটি ঘোষণা দিয়েছিল ঈদের দিনের কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি আট ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল; কিন্তু ঘোষণা অনুযায়ী কাজটি হয়নি।
.কথা রাখেনি ঢাকার দুই সিটি, ১২ ঘণ্টা পরেও পড়ে আছে বর্জ্য.মুক্তকণ্ঠ অনলাইনে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের দুই ঘণ্টা পর জানা যায়, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন (২৯ মে) তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে চার ঘণ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। কয়েকটি এলাকার অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
.বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখতে চার ঘণ্টা ঢাকার রাস্তায় প্রধানমন্ত্রী, দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার.কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য নিজস্ব বাহনের পাশাপাশি প্রতিবছর দরপত্রের মাধ্যমে পিকআপ, ডাম্প ট্রাক, পে-লোডার ও কর্মী ভাড়া করে সিটি করপোরেশন। এবার আট শতাধিক কর্মী ভাড়া করা হয়।
সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুজন কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রতিবার ঈদুল আজহার সময় ডাম্প ট্রাক (বর্জ্য বহনকারী ট্রাক) ও পে-লোডার (সড়ক থেকে বর্জ্য টেনে ট্রাকে তোলার ভারী যন্ত্র) চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার সরবরাহ করেন। ঝামেলা হয় পিকআপ সরবরাহ নিয়ে। চুক্তি অনুযায়ী সব পিকআপ সব সময় আসে না। এই বাস্তবতা অস্বীকার করে লাভ নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু ঠিকাদার ভ্যান সার্ভিসের কর্মী এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে দেখান। ঠিকাদারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী সব কর্মী ঈদের দিন কাজে যোগ দেন না, কিছু অনিয়ম হয়।
নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, কোনো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সহজ কাজ নয়। কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজটি যাতে দ্রুত ও ঠিকমতো হয়, সে জন্য এ বছর প্রধানমন্ত্রী নিজে মাঠে নেমে তদারক করেছেন। উত্তর সিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকও অতিরিক্ত যানবাহন ও কর্মী নিয়োগ করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ে সদিচ্ছা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম ও গাফিলতি রোধে প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি ও তদারকি প্রয়োজন।






