সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে সেরা চিত্রগ্রাহক হয়েছেন সামিউল করিম। ‘সাঁকোটা দুলছে’ সাদাকালো সিনেমাটি শনিবার রাতে তাঁকে এই পুরস্কার এনে দিয়েছে। এ বছর এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে চীনের হার ফাস্ট টেস্ট।

শনিবার রাতেই হোয়াটসঅ্যাপে খবরটি জানতে পেরেছেন চিত্রগ্রাহক সামিউল করিম। খবরটি শোনার সময় শুটিং করছিলেন। জানালেন বেশ কয়েক বছর ধরে স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা বানালেও সাঁকোটা দুলছে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা।

.

সামিউল বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র একটা ক্যামেরা ও একটি ২৪ মিলি লেন্স দিয়ে পুরো সিনেমাটি বানিয়েছি। আমাদের কোনো মনিটর, আলাদা লাইট ছিল না। এর মধ্যে দিয়েই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সিনেমাটি এই প্রতিযোগিতায় চিত্রগ্রহণের পুরস্কার পাবে, এটা কখনোই ভাবিনি। পরে পুরস্কারের খবর শুনে অবাক হয়েছি। প্রথম সিনেমাই আমাকে অনেক বড় কিছু দিল। দায়বদ্ধতাও বাড়িয়ে দিল। পরবর্তী কাজগুলো আরও ভেবেচিন্তে করতে হবে।’

সাঁকোটা দুলছে সিনেমার প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক। দলের বেশির ভাগ সদস্যই অভিনেতার শিক্ষার্থী। পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা ৯০ ভাগ ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড স্টাডিজ পড়ান মনোজ।

.

সাংহাই থেকে শনিবার রাতেই তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা একটি টিম হয়ে কাজ করছি। এই টিম যদি ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাহলে আমাদের তরুণদের দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। সিনেমার পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদের এটি প্রথম সিনেমা। এই তরুণ মাত্র ২৪ বছর বয়সেই বাংলাদেশের মতো একটি দেশ থেকে সিনেমা বানিয়ে সাংহাইয়ের মতো চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। সে আরও ভালো করবে। আমরা সবাই মিলে সামনে আরও ভালো কিছু সিনেমা করতে পারব।’

.সিডনিতে ৭০ দেশের ২৪০ ছবির ভিড়ে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’ নিয়ে উচ্ছ্বাস.

উৎসবে চিত্রগ্রাহকের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ। সাংহাই থেকে ইশতিয়াক বলেন, ‘আমরা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। এখানে এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে অনেক বড় বাজেট ও বড় প্রোডাকশনের সিনেমা ছিল। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। সেখানে আমাদের সাদা কালো সিনেমাটির ক্যামেরার কাজ জুরিরা পছন্দ করেছেন। আমাদের অনেকেরই এটা প্রথম কাজ। এই অর্জন ভবিষ্যতে আমাদের আরও বেশি ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।’

গ্রামবাংলার পটভূমিতে তৈরি এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে তিন তরুণীর সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং সামাজিক নিপীড়নের গল্প। এতে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার, তাহমিদা রহমান, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম, নিশাত তাসনিম, মামুন রেজা, রবিউস সানি, ফয়সাল, পিয়াল সরকার।
২১ জুন শেষ হয়েছে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসর।