মুক্তি পেয়েছে ‘হন্টেড থ্রিডি: ইকোজ অব দ্য পাস্ট’। বিক্রম ভাটের এই হরর ছবিতে অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চেতনা পান্ডে। ব্যক্তিগত জীবনের গত কয়েক মাস ছিল অত্যন্ত কঠিন। হান্টারফ্লাই ওয়েবসাইটকে এক সাক্ষাৎকারে চেতনা জানান, ‘মা অসুস্থ ছিলেন আর আমার প্রেমিকও স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সময়টা খুব বাজে ছিল। মনে হচ্ছিল, জীবন যেন অনেক ধীর হয়ে গেছে,’ বলেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, সেই সময়ে অভিনয়ের কাজের চেয়ে পরিবারের পাশে থাকা এবং তাঁদের দেখাশোনা করাই হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার।

এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে বলেও জানান চেতনা। তাঁর মতে, কঠিন সময় মানুষকে থেমে ভাবতে শেখায় এবং জীবনে সত্যিই কী গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে সাহায্য করে। ‘পরিবারের যত্ন নেওয়া, নিজের সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া, এটাই আমার কাছে তখন গুরুত্ব পেয়েছে। আর এই সত্য মেনে নেওয়া যে জীবনের সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না—এই শিক্ষাগুলো আমি এই সময়েই পেয়েছি।’

চেতনার মতে, কঠিন সময়ে ধৈর্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুণ। কারণ, অনেক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হয় না। সেই সময় পরিস্থিতির ওপর ভরসা রাখা এবং মানসিকভাবে দৃঢ় থাকাই মানুষকে কঠিন সময় পার হতে সাহায্য করে। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে ‘হন্টেড থ্রিডি’র মুক্তিকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করছেন চেতনা। তিনি জানান, ছবির চরিত্রটি তাঁকে অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ দিয়েছে। চরিত্রটি যেমন আবেগনির্ভর, তেমনি অভিনয়ের দিক থেকেও ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। ‘এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। এই ছবি আমার কাছে শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ের পর একটি নতুন শুরু,’ বলেন অভিনেত্রী।

বিনোদনজগৎকে সাধারণত প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা এবং সাফল্যের চাপের জায়গা হিসেবে দেখা হলেও চেতনার মতে, ধৈর্যই ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলোর একটি। ‘সব পরিস্থিতি বদলে ফেলা আমাদের হাতে থাকে না। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।’ তাঁর মতে, কঠিন সময়ে শান্ত, মনোযোগী এবং মানসিকভাবে দৃঢ় থাকাই দীর্ঘ মেয়াদে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

চেতনা মনে করেন, গত কয়েক বছরে দর্শকদের কনটেন্ট দেখার ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ‘এখন মানুষ শুধু বিনোদন চান না। তাঁরা এমন অভিজ্ঞতা চান, যা তাঁদের আবেগকে স্পর্শ করবে। এখন দর্শক শুধু কনটেন্ট দেখেন না, সেটিকে অনুভবও করেন।’ তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তনের ফলে নির্মাতা এবং শিল্পীরা এখন আরও বাস্তবধর্মী গল্প, বহুস্তরীয় চরিত্র এবং আবেগনির্ভর গল্প বলার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

চেতনার বিশ্বাস, বর্তমানে দর্শকেরা এমন গল্পের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন, যা বাস্তব, বিশ্বাসযোগ্য এবং সহজে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। তাঁর ভাষ্যে, ‘শুধু জাঁকজমক বা চমক নয়, মানুষের অনুভূতি, দুর্বলতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্পই এখন দর্শকদের বেশি টানে। গল্পের ধরন যা–ই হোক, আন্তরিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর মতে, কোনো ছবি বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হবে, তা আগে থেকে বলা কঠিন হলেও শক্ত অভিনয় ও বাস্তবধর্মী গল্প সব সময়ই দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করতে পারে।