বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতে চিকিৎসাধীন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুর গুজব। বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে তাঁর নামে তৈরি ‘মৃত্যুর গুজব’ সংক্রান্ত ফটোকার্ডগুলো ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ তাঁর পরিবার। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ও তাঁর বাবা কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, মৃত্যু নিয়ে এ ধরনের গুজব কারও কাছ থেকেই কাম্য নয়।

শুক্রবার সকালে কায়সার হামিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যেকোনো সময় মরে যেতে পারি, দুই মিনিটের গ্যারান্টি নেই। এরপরও মৃত্যুর মতো একটা বিষয় নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা উচিত নয়। আমাদের পরিবার এমনিতেই ওর স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন, এ মুহূর্তে সকলের মানসিক সাপোর্ট প্রয়োজন। দয়া করে এমন কাজ করবেন না।’ কারিনার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফুসফুসে কিছুটা ইনফেকশন আছে, এটা ধীরে ধীরে রিকভারি করছে। এরপর লিভারের চিকিৎসা হবে। এর মাঝে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকালও আমার দুই ছেলের কিছু টেস্ট হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টা পর রিপোর্ট আসবে।’

লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন কারিনা কায়সার এখন চেন্নাইয়ের ভেলোরে অবস্থিত খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত সোমবার রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন কারিনা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা ও দুই ভাই।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সম্প্রতি অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।