মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে এখন যাত্রীরা সহজেই নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রোসারি পণ্য কিনতে পারছেন। বিভিন্ন স্টেশনের প্রান্তে গড়ে উঠেছে গ্রোসারি শপের পাশাপাশি কফি ও হালকা নাশতার আউটলেট। এগুলো যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনে নতুন সুবিধা যোগ করেছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কোন স্টেশনে কোন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার বিস্তারিত জানুন।
এই স্টেশনে রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান—ফ্রেশ সুপার মার্ট ও ঘরের বাজার। স্টেশনের দুই প্রান্তে ফ্রেশ সুপার মার্টের দুটি আউটলেট রয়েছে। এখানে যাত্রীরা প্রয়োজনীয় গ্রোসারি পণ্য কিনতে পারবেন। ফ্রেশ তার নিজস্ব ব্র্যান্ডের সঙ্গে অন্যান্য ব্র্যান্ড ও আমদানি করা পণ্য রাখছে। অনেক আউটলেটে কফি কর্নার ও স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা আছে।
ঘরের বাজার মূলত স্বাস্থ্যসম্মত ও অর্গানিক পণ্যের জন্য পরিচিত। এখানে অর্গানিক শাহি লাচ্ছা সেমাই, চালের গুঁড়া, গমের আটা, আচার, অলিভ অয়েল, ব্ল্যাক গার্লিক, পিংক সল্ট, স্পিরুলিনা পাউডার, অশ্বগন্ধা পাউডার, আপেল সিডার ভিনেগার ও বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায়। লিচু, মিশ্র ফুল ও সুন্দরবনের মধুর পাশাপাশি আমদানি করা মধু এবং কাঠের ফ্রেমে বন্দী চাকের মধুও রয়েছে। বিভিন্ন মধু চেখে দেখতে চাইলে ৮ গ্রাম ও ১৫ গ্রাম ওজনের চকলেট আকারের মধুর প্যাকেট পাওয়া যাবে। ঘরের বাজারে নির্দিষ্ট টাকার পণ্য কিনলে উপহারের ব্যবস্থা আছে। শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড দেখালে ৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।
এই স্টেশনেও ফ্রেশ সুপার মার্টের একটি আউটলেট রয়েছে। গ্রোসারি কেনাকাটার পাশাপাশি কফি কর্নারে হালকা নাশতা ও কফি উপভোগের সুযোগ আছে।
এই স্টেশনে বর্তমানে কোনো বাণিজ্যিক বিক্রয় প্রতিষ্ঠান নেই।
ফ্রেশ সুপার মার্ট, এক্সপ্রেস বাই ইউনিমার্ট ও ইন্ডালজের আউটলেট আছে এই স্টেশনে। এক্সপ্রেস বাই ইউনিমার্ট ইউনিমার্টের চেইন সুপারশপ। মাছ, মাংস, কাঁচা ফলমূল, শাকসবজির মতো পচনশীল পণ্য বাদে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারশপে যা যা থাকে, তার প্রায় সবই এখানে পাওয়া যায়। স্ন্যাকস কর্নার, বেভারেজ কর্নার, পারসোনাল কেয়ার, স্কিন কেয়ার, বেবি কেয়ার, হেয়ার কেয়ার, ডেন্টাল কেয়ারসহ বিভিন্ন জোনে ভাগ করা এই সুপারশপে বেবি ফুড কর্নার, টয় কর্নার ও গ্রোসারি সেকশন রয়েছে। থাইল্যান্ড, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যও মিলবে। শুধু মেট্রোরেলের যাত্রীই নন, স্থানীয় লোকজনও রাস্তা পারাপারের সময় এখান থেকে পণ্য কিনছেন, এমনটাই জানালেন এক্সপ্রেস বাই ইউনিমার্টের হিসাবরক্ষক মো. নাহিদ।
ইন্ডালজ ইউনিমার্টের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং কফিশপ হিসেবে পরিচিত। এক্সপ্রেস বাই ইউনিমার্টের পাশেই একই ফ্লোরে এর অবস্থান। এখানে এসপ্রেসোর দাম ১৯৫ টাকা, আমেরিকানো ২১৫ টাকা, ম্যাকিয়াটো ২২৫ টাকা, ক্যাপুচিনো ও ক্যাফে লাটে ২৪৫ টাকা, টফি নাট লাটে ৩২৫ টাকা, হ্যাজেলনাট লাটে ও বাটারস্কচ লাটে ৩৪৫ টাকা। বিভিন্ন স্বাদের আইস ব্লেন্ডেড কফির মধ্যে চকলেট, ক্যারা মেল কফি, হ্যাজেলনাট, মোকা, ডার্ক চকলেট, পিউর হ্যাজেলনাট, পিউর ভ্যানিলা, পিউর ক্যারামেল, রয়্যাল ক্যাপুচিনো, বাটার স্কচ লাটে—সবই ৩৯৫ টাকা করে। অন্যান্য কোমল পানীয়র সঙ্গে ফলের শরবতও আছে।
এই স্টেশনে ফ্রেশ সুপার মার্টের একটি আউটলেট রয়েছে। গ্রোসারি কেনাকাটার পাশাপাশি কফি কর্নারের সুবিধাও মিলবে।
এই স্টেশনেও ফ্রেশ সুপার মার্টের একটি আউটলেট রয়েছে। এখানে সবচেয়ে বেশি পণ্যের আয়োজন এবং বিভিন্ন রকম ফাস্ট এইড মেডিসিন কিনতে পারবেন।
এই স্টেশনে এক্সপ্রেস বাই ইউনিমার্ট, ইন্ডালজ, টেস্টি ট্রিট ও কুপার্স বেকারি রয়েছে। টেস্টি ট্রিট সাশ্রয়ী মূল্যে হালকা নাশতার জন্য জনপ্রিয়। বিভিন্ন ধরনের কেক, পেস্ট্রি, বার্গার, প্যাটিস, পপকর্ন, চানাচুর, ড্রাই কেক, টোস্ট বিস্কুট ও প্যাকেটজাত নানা স্ন্যাকস আইটেম পাওয়া যায়। গরমে তাজা ফলের রসে বানানো জুসও আছে।
কুপার্স বেকারির এই আউটলেটে চিকেন স্যান্ডউইচ ৯০ থেকে ১৮০ টাকা, বারবিকিউ চিকেন র্যাপ ১৬০ টাকা, চিকেন কাটলেট ৭৫ টাকা, বেকড সমুচা ৫৫ টাকা, ফালুদা ১০০ টাকা। নেসলে কফি কর্নারে চার ধরনের প্রিমিয়াম কফি: ১৫০ টাকায় আমেরিকানো, ১৪০ টাকায় এসপ্রেসো, ২১০ টাকায় লাটে ও ১৯০ টাকায় ক্যাপুচিনো। জন্মদিনসহ বিভিন্ন আয়োজনের জন্য ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কেক পাওয়া যায়। চাইলে অর্ডারও করা যায়। আসা-যাওয়ার পথে খাবার কিনে নেওয়ার পাশাপাশি বসে খাবারের ব্যবস্থাও আছে।
এই স্টেশনে ঘরের বাজার ও টেস্টি ট্রিট রয়েছে। ঘরের বাজারের আউটলেটে উত্তরা উত্তর স্টেশনের মতো অর্গানিক ও স্বাস্থ্যকর পণ্য পাবেন। মধু, মসলা, ঘি, খেজুর, বাদামসহ বিভিন্ন প্রিমিয়াম পণ্য আছে। টেস্টি ট্রিটের আরেকটি আউটলেটও রয়েছে, যার মেনু ও দাম কাজীপাড়া স্টেশনের মতো।
এই স্টেশনে বর্তমানে কোনো বাণিজ্যিক বিক্রয়কেন্দ্র নেই।
১. সব আউটলেট মেট্রোরেলের সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
২. আউটলেটগুলোর অবস্থান প্ল্যাটফর্মের কনকোর্স লেভেলে মানে টিকিট কাটার আগেই হওয়াতে শুধু ট্রেনের যাত্রীই নন, টিকিট কাটার ঝামেলা ছাড়াই নিকটবর্তী নগরবাসী এখান থেকে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।
৩. যেহেতু আউটলেটগুলোর অবস্থান ট্রেনের টিকিট কাটার আগেই তাই যত সময় ধরে চাইবেন অবস্থান করে দেখেশুনে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।
৪. তবে একই ফ্লোরের দুই মাথায় আউটলেট থাকলেও টিকিট কাটার অংশ পেরিয়ে সরাসরি অন্য প্রান্তে গিয়ে কেনাকাটার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের এক প্রান্ত থেকে নেমে নিচ দিয়ে হেঁটে গিয়ে অন্য প্রান্তে উঠে কেনাকাটা করা যাবে।






