জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চিকিৎসাধীন জিন্নাত আলী (৬৫)의 মৃত্যু ঘটনায় মামলা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহত জিন্নাত আলীর ছেলে আবু হুরায়রা এই মামলা দায়ের করেন।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) তদন্ত করে ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোকছেদুল হাসান মণ্ডল বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হৃদয় হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস এম এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ড বয় শহিদ, আশিক, সামিউল, মশিউর রহমান লাভলু এবং হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, রিসেপশনিস্ট জুনায়েদসহ কয়েকজন।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে রেফার করার পর জিন্নাত আলীকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় শহিদ বাদীর বাবাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে পরীক্ষা করার নাটক করে জানান যে তাঁর হার্টে নয় বরং মাথায় সমস্যা। সেখানে আইসিইউ খালি নেই বলে ফুসলিয়ে রোগীকে শ্যামলীর হৃদয় হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড নামক বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ অনুসারে, ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীর ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় এবং রোগীর চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে টাকা পরিশোধ করে জিন্নাত আলীকে আবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, স্থানান্তরের ফলে রোগীর সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হয়েছে। ওই দিন বিকেলেই জিন্নাত আলী মারা যান।

মামলায় আরও বলা হয়, ঘটনার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিদের কাছে কৈফিয়ত চাইতে গেলে বাদীকে মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর বিকেলে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশকে দায়িত্ব দেন এবং ১৬ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।