নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া মিনাপাড়ায় ‘রাহুল-রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম’ খামারে ২৮ মণ ওজনের বিশাল ‘বাহুবলী’ নামের ষাঁড় দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন মানুষ। কোরবানির ঈদের আগে এই ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
সাদা-কালো রঙের এই ষাঁড়টি সাধারণত শান্ত স্বভাবের, তবে নতুন মানুষ দেখলে কিছুটা উত্তেজিত হয়। খামারিরা বলেন, এটিকে বাইরে বের করতে কমপক্ষে ১০-১২ জনের সাহায্য দরকার, তাই আগে থেকে লোকজন জোগাড় করতে হয়।
প্রায় ১৪ ফুট লম্বা এবং ৬ ফুট উঁচু এই বিশালকায় ষাঁড়টির খামার মালিক রিপন মিয়া জানান, ঈদুল আজহার জন্য এটিকে বিক্রির উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে খড়রিয়া মিনাপাড়ায় রিপনের বাড়ির উঠানে তিনটি ছোট গোয়ালঘর দেখা গেছে। এতে ২২টি ষাঁড় রয়েছে—২১টি সাহিওয়াল এবং একটি ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল। সবাই কোরবানির জন্য প্রস্তুত এবং পরিপুষ্ট দেখাচ্ছে, তবে ‘বাহুবলী’ আলাদাভাবে নজর কাড়ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ষাঁড়টিকে শান্ত রাখতে রিপনের স্ত্রী রোজিনা পারভিন বালতি ভরে পানি এনে গোসল করাচ্ছিলেন।
খামারটি ২০১৮ সালে শুরু হয় রিপনের দুই সন্তান রাহুল ও রিয়ার নামে। আড়াই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট থেকে ২০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টি কিনে আনেন রিপন। স্নেহ, যত্ন ও পুষ্টিকর খাবারে এর গড়ন বেড়েছে এবং ভালোবেসে নামকরণ করা হয় ‘বাহুবলী’। প্রতিদিন এর পেছনে খরচ হয় ৮০০-৯০০ টাকা।
রিপন বলেন, “বর্তমানে বাহুবলীর দাঁত দুটি। আর ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি। ১০ লাখ টাকা হলে গরুটি বিক্রি করব। আমি চাই, নির্ধারিত বাজরমূল্যে বাহুবলীকে নড়াইল-১ আসনের এমপি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস কিনুক। এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলব। তিনি কিনলে খুশি হব।”
ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন খামারে ভিড় হয়। কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও করেন, কেউ অবাক হয়ে দেখেন। নড়াইল শহরের দুর্গাপুরের সিফাত কাজী বলেন, “আমি জীবনে অনেক গরু দেখেছি, পালনও করেছি। তবে এত বড় গরু আগে কখনো দেখিনি। গরুটি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনই বড় ও শান্ত।”
সোহেল রানা নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, “আমরা দেখতি আসছি অনেক দূরে থেকে। দেখলাম, আসলেই খুব বড় গরু। আমার সামনে এখনো এত বড় গরু পড়েনি।”
জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশেদুল হক বলেন, ফ্রিজিয়ান সাহিওয়াল জাতের এই ষাঁড়টিকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু বলে উল্লেখ করে, “আমরা প্রত্যাশা করছি, খামারি ন্যায্যমূল্য পাবেন, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আরও আগ্রহ বোধ করেন। খামারটিতে তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালনপালন করছেন বলেই জেনেছি।”






