কুমিল্লা নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার ওয়াসা (পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভার সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আলোচনায় কুমিল্লা নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, দ্রুত নগরায়ণ এবং নিরাপদ পানির চাহিদা নিয়ে গুরুত্ব পায়। এছাড়া আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি নগর–ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।

সভায় মন্ত্রী বলেন, "কুমিল্লা শহরের নাগরিকদের জন্য কার্যকর ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ওয়াসা গঠন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।" তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা–৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচটি ওয়াসা রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, খুলনা ওয়াসা, রাজশাহী ওয়াসা ও সিলেট ওয়াসা। কুমিল্লায় ওয়াসা গঠিত হলে দেশে ওয়াসার সংখ্যা বেড়ে হবে ছয়টি।

ওয়াসার প্রধান কাজ হলো নগর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিচালনা করা। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যপানি শোধন, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সংস্থাটির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ওয়াসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।