দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মী ছিলেন তারিক আনাম খানের সঙ্গে প্রয়াত অভিনেতা আতাউর রহমান। একসঙ্গে অনেক কাজ করেছেন, আড্ডাও জমত তাঁদের। তারিক আনাম খানের কাছে তিনি ছিলেন পছন্দের সঙ্গী। সেই আতাউর রহমানকে স্মরণ করে তারিক আনাম খান ফেসবুকে লিখলেন, ‘সেই হাসিমাখা মুখটাই বারবার স্মৃতিতে ফুটে ওঠে। সেটাই মনে রাখতে চাই।’

তারিক আনাম খান লিখেছেন, ‘আজ যাই, কাল যাই করে যাওয়াটা আর হলো না। শেষ দেখা, শেষ কথা আর হলো না। এ রকম অফুরান জীবনীশক্তির মানুষ চলে যাবেন এখনো বিশ্বাস হয় না। হাসিঠাট্টা, তর্ক–বিতর্ক, ভালোবাসা–অভিমান আর কত কত স্মৃতি!’

দীর্ঘ ক্যারিয়ার জুড়ে একসঙ্গে মঞ্চে কাজ করেছেন তারা। সবসময় একে অপরের পাশে ছিলেন। একে অপরের নাটক দেখতেন, নাটক নিয়ে নিয়মিত আড্ডা হতো। সেই স্মৃতি তুলে ধরে তারিক আনাম খান লিখেছেন, ‘আতা ভাইয়ের নির্দেশিত ও অভিনীত মঞ্চের বেশির ভাগ নাটক আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু তার থেকে বড় সৌভাগ্য হয়েছে, তিনি আমার নির্দেশিত ও অভিনীত সব নাটক দেখেছেন, সমালোচনা করেছেন, কিন্তু তার থেকে বেশি প্রশংসা করেছেন এবং পত্রিকায় লিখেছেন।’

১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তর ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে নাট্যনির্দেশক হিসেবে আবির্ভূত হন আতাউর রহমান। পরবর্তীকালে তাঁর নির্মিত নাটকগুলো নিয়মিত দেখতেন তারিক আনাম খান। একসময় তারিকের নাটকগুলো নিয়মিত দেখতেন আতাউর রহমান। তারিক লিখেছেন, ‘তিনি আমাদের নবনাট্য আন্দোলনের এক পথিকৃৎ। “তুঘলক”, “ক্রুসিবল”, “আরজ চরিতামৃত”, “বন্দুক যুদ্ধ, গাধার হাট” নিয়ে তাঁর লেখা নাট্য সমালোচনা আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল এবং আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন।’

তারিক আনাম খান আরও লিখেছেন, ‘আতা ভাই আদ্যোপান্ত থিয়েটারে নিবেদিত একজন মানুষ, কোনো দিন শুনিনি বা দেখিনি দেরি করে রিহার্সালে এসেছেন, প্রদর্শনীতে এসেছেন। আতা ভাই রিহার্সাল কিংবা প্রদর্শনীতে থাকা মানেই মজা আর আনন্দের এক অনন্য পরিবেশ। বয়স কোনো বাধাই নয়। তাঁর সেই হাসিমাখা মুখটাই বারবার স্মৃতিতে ফুটে ওঠে। সেটাই মনে রাখতে চাই। অনন্তলোকে আনন্দে থাকুন আতা ভাই।’

বেশ কদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন আতাউর রহমান। গত সোমবার রাতে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সত্তরের দশকে ব্যস্ত হয়ে যান সাংস্কৃতিক চর্চায়। একাধিক নাটকে অভিনয় করেন। আতাউর রহমান নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমাণ’-এর মতো নাটকগুলোও নির্দেশনা দিয়েছেন।