নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানার স্টোররুম থেকে ইদ্রিস আলী (৪৫) নামের এক কর্মকর্তার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাড়ৈভোগ এলাকায় অবস্থিত ফারিহা নিট টেক্স লিমিটেড কারখানার স্টোররুম থেকে মরদেহটি পাওয়া যায়।

ইদ্রিস আলী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার গোয়ালদী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি এই কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, আজ সকালে কাজে আসার সময় তারা কারখানার দরজা বন্ধ দেখেন। ভেতরে ঢুকে স্টোররুমে ইদ্রিস আলীর গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ আবিষ্কার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কারখানার সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানায়।

কারখানার ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সকাল ১০টার দিকে এক শ্রমিক প্রথম মরদেহটি দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। নিহত ইদ্রিসের ছোট ভাই মো. জুয়েল সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে ছুটি শেষে ইদ্রিস কারখানার গাড়িতেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ইদ্রিস কারখানায় নেই।

জুয়েল আরও বলেন, ‘আজ সকালে শুনি স্টোররুমে লাশ পাওয়া গেছে। আমার ভাইয়ের পা মাটিতে লাগানো ছিল। এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ তাঁর আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ ছিল না। এ ঘটনায় তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গার্মেন্টসের স্টোররুম থেকে এক কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ওসি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।