এইচবিওতে ‘ইউফোরিয়া’র তৃতীয় ও চূড়ান্ত মর্যাদায় প্রচার চলছে। এই সিরিজে সিডনি সুইনি অভিনীত ক্যাসি চরিত্রটিকে চিত্রিত করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। মুক্তির পর থেকে এই চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রাপ্তবয়স্ক প্ল্যাটফর্ম ‘অনলিফ্যানস’-এর নির্মাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। তাঁদের অভিযোগ, সিরিজটি যৌনকর্মীদের জীবনকে বিদ্রূপাত্মক এবং অবাস্তবভাবে তুলে ধরেছে।
চলচ্চিত্র সংক্রান্ত মার্কিন গণমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘ইউফোরিয়া’র তৃতীয় মর্যাদায় কিশোর-তরুণদের জীবন আরও অন্ধকারময় হয়ে ওঠে। স্যাম লেভিনসনের এই সিরিজে দেখা যায়, জেনডায়া অভিনীত রু চরিত্রটি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং ঋণ শোধ করতে একটি স্ট্রিপ ক্লাবে কাজ শুরু করে। অন্যদিকে, হান্টার শেফার অভিনীত জুলস চরিত্রটি এক ধনীর ‘সুগার বেবি’ হিসেবে আয় করতে থাকে। আর সিডনি সুইনি অভিনীত ক্যাসি একটি ‘অনলিফ্যানস’ অ্যাকাউন্ট খোলে তার প্রেমিক নেটকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ হাজার ডলারের ফুলের খরচ জোগাড় করতে। অর্থাৎ, সিরিজের প্রধান তিনটি চরিত্রের সঙ্গেই যৌনতার যোগাযোগ রয়েছে।
সিরিজে ক্যাসিকে উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করতে দেখা যায়। অন্য এক দৃশ্যে তাকে শিশুর মতো সাজিয়ে সোফায় শোয়ানো হয়। এসব ছবি তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তার বাসার গৃহপরিচারিকার কাছে।
এই ধরনের উপস্থাপনাই বাস্তব অনলিফ্যানস নির্মাতাদের ক্ষুব্ধ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে অনলিফ্যানসে কাজ করা নির্মাতা সিডনি লিথারস ভ্যারাইটিকে বলেন, “পুরো ব্যাপারটাই অত্যন্ত হাস্যকর ও কার্টুনের মতো। সিরিজে যেসব কনটেন্ট ক্যাসিকে করতে দেখানো হয়েছে, তার অনেক কিছুই বাস্তবে অনলিফ্যানসে অনুমোদিত নয়। বিশেষ করে শিশুর মতো সাজা—এসব কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার পরিপন্থী।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলিফ্যানসের ‘অ্যাকসেপ্টেবল ইউজ পলিসি’ অনুসারে কোনো ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সেজে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট প্রকাশ নিষিদ্ধ। এমন কনটেন্ট পোস্ট করলে অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডও সিরিজটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, সিরিজটি এমন ধারণা দিচ্ছে যেন যৌনকর্মীরা টাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত।
মেইটল্যান্ড বলেন, “এমন সময়ে ক্যাসিকে শিশুর পোশাক পরিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আবারও সেই পুরোনো ধারণা জোরালো হয় যে যৌনকর্মীদের কোনো নৈতিকতা নেই। হলিউড যেন বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু এতে হাসির কিছু নেই।”
তবে নির্মাতা স্যাম লেভিনসন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি, ক্যাসির ‘অনলিফ্যানস’ গল্পে এক ধরনের অদ্ভুত হাস্যরস সৃষ্টি করতে চেয়েছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ক্যাসির দৃশ্যগুলোর মধ্যে আলাদা ধরনের হাস্যরস আছে। কিন্তু দৃশ্যগুলোর আসল মজা এসেছে গৃহপরিচারিকার মাধ্যমে, যে এগুলো ধারণ করছে। স্যাম আরও বলেন, তাঁরা চেয়েছেন, দর্শক যেন ক্যাসির তৈরি করা কৃত্রিম জগতের ভেতরে ঢুকে পড়েন, আবার হঠাৎ বাইরে এসে পুরো বিষয়টির বিষণ্ণ বাস্তবতাও দেখতে পারেন।
কিন্তু নির্মাতার এই ব্যাখ্যায় অনেকে সন্তুষ্ট নন। মেইটল্যান্ড ওয়ার্ডের ভাষায়, “এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে অনলিফ্যানসের গল্পটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি; বরং এটি পুরুষ লেখকদের কল্পনার মতো মনে হয়েছে।”
তবে সিরিজের কিছু অংশকে কিছু নির্মাতার কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। জনপ্রিয় অনলিফ্যানস নির্মাতা অ্যালিক্স লাইনেক্স বলেন, ক্যাসি যেভাবে ভাইরাল হওয়ার জন্য জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের পার্টিতে যায়, সেটি বাস্তবতার কাছাকাছি। তাঁর ভাষায়, “মার্কেটিংয়ের দিক থেকে এটি স্মার্ট সিদ্ধান্ত। কিন্তু সিরিজে দেখানো হয়েছে, শুধু সুন্দর চেহারা আর কিছু পাগলামি করলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা আসবে। বাস্তবে তা নয়। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করতে হয়।”






