নখ কাটা যেন একটা সাধারণ কাজ, কিন্তু ভুল পদ্ধতিতে করলে এ থেকে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নখের সঠিক যত্ন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; বরং সংক্রমণ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ইনগ্রোন নখ

নখের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যার একটি হলো ইনগ্রোন নখ, অর্থাৎ নখের ভেতরের দিকে বৃদ্ধি। এটি সাধারণত পায়ের নখ গোল করে বা কোনা অতিরিক্ত কেটে ফেললে হয়। ফলে নখ পাশের চামড়ায় ঢুকে যায়, যা তীব্র ব্যথা, লালভাব, ফোলা এমনকি পুঁজ জমার কারণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি এত জটিল হয় যে ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।

প্যারোনাইকিয়া

এছাড়া ভুলভাবে নখ কাটলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। অপরিষ্কার নেইল কাটার ব্যবহার, গভীরভাবে কাটা বা ত্বকে ক্ষত হওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সহজে শরীরে ঢোকে। এতে প্যারোনাইকিয়া হয়, যার ফলে নখের চারপাশে ফোলা, ব্যথা ও পুঁজ জমে। কখনো এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে নখের গঠন নষ্ট করে দিতে পারে।

জীবাণুর বিস্তার

অনেকে নখ খুব ছোট করে কাটেন বা বারবার কাটেন, যা নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং নখ পাতলা-ভঙ্গুর করে তোলে। দাঁত দিয়ে নখ কাটা বা হাতে ছিঁড়ে ফেলাও অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে সংক্রমণ ছাড়াও মুখের জীবাণু হাতের মাধ্যমে শরীরে ছড়াতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগী বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম যাদের, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাঁদের পায়ের নখ ভুলভাবে কাটলে ক্ষত দ্রুত শুকায় না এবং জটিলতা তৈরি হয়। তাই তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা দরকার।

নখ কাটার সময় আমরা প্রায়ই এই ভুলগুলো করি:

  • খুব তাড়াহুড়োয় কাটা
  • অন্ধকারে বা আলো ছাড়া কাটা
  • ভেজা বা শক্ত নখে ভুল কোণে চাপ দেওয়া

এসবের ফলে নখ অসমান হয় এবং ত্বকে আঘাত লাগার সম্ভাবনা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পায়ের নখ সব সময় সোজা করে কাটা উচিত, কোনায় খুব বেশি না কেটে সামান্য রেখে দেওয়া ভালো। হাতের নখ সামান্য গোল করা যায়, তবে অতিরিক্ত গভীর নয়। পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত নেইল কাটার ব্যবহার জরুরি। নখ কাটার আগে হাত-পা পরিষ্কার রাখা এবং কাটার পর ধুয়ে নেওয়া ভালো অভ্যাস। প্রয়োজনে গোসলের পর নখ নরম হয়ে কাটা যায়।

সারকথা, নখ কাটা ছোট কাজ হলেও সঠিক পদ্ধতি না জানলে বড় সমস্যা হতে পারে। সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই আপনাকে ব্যথা, সংক্রমণ ও জটিলতা থেকে রক্ষা করবে।