হামের টিকা এখনো নেওয়া হয়নি এমন শিশুদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ চলছে। সবাইকে টিকার আওতায় নেওয়ার লক্ষ্যে এ কাজ ২০ মে পর্যন্ত চলবে। তবে বড় শহরগুলোতে রাস্তায় বা ভাসমান পরিবারের শিশুদের টিকা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুটি উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে সব জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পৌরসভা মেডিক্যাল কর্মকর্তা এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকার আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইপিআইয়ের ৭ মের ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দ্রুত যাচাই পদ্ধতি আরসিএম (র‌্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং) করে কমপক্ষে ২০টি খানা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশু শনাক্ত করতে হবে। তাদের কাছের কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওই উপজেলায় ২ থেকে ৩ শতাংশ শিশু এখনো হামের চলমান ক্যাম্পেইনের টিকা পায়নি। গতকাল সোমবার থেকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাদ পড়া শিশু খুঁজে বের করার কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের আরেকটি জেলার সদরে কাজ করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একজন মেডিকেল কর্মকর্তা। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তিনি ২০টি পরিবার ঘুরে টিকা নিতে বাদ পড়া তিনটি শিশু পেয়েছেন।

সাধারণত বড় শহরে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা বেশি। এসব শিশু কোথায় আছে তা খুঁজে বের করাও কঠিন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভসের (আইদেশি) কর্মীরা বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করায় সহায়তা করছেন।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ভাসমান শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স নামানো হয়েছে। এই অ্যাম্বুলেন্স সেতুর ওপরে, জাতীয় উদ্যানের আশপাশে, চিড়িয়াখানার সামনে, মেট্রোরেল স্টেশনের সিঁড়ির নিচেসহ সম্ভাব্য সেই সব জায়গায় যাচ্ছে, যেখানে ভাসমান পরিবারের সঙ্গে শিশু থাকতে পারে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আট বিভাগে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। ৫ এপ্রিল টিকা দেওয়া শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৬ শিশু টিকা পেয়েছে। অর্থাৎ টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৩৮।

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ৬টি শিশু মারা গেছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকার ৩, চট্টগ্রামের ২ ও ময়মনসিংহের ১ জন রয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৬৫ শিশু। অর্থাৎ এ পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৪১৫ শিশু।