স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীতে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বজায় থাকবে। একইভাবে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে ‘ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বক্তব্য দেন। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাগত জানান। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এ সময়ে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হবে।

পুলিশের পেশাদারত্ব বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি আধুনিক পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর মধ্যে একটি এলিট ফোর্সের জন্য এবং অন্যটি সাধারণ ফোর্সের জন্য ব্যবহার করা হবে। এলিট ফোর্সের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। জমি পাওয়া সাপেক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

অপারেশনাল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যূনতম বল প্রয়োগ নীতি অনুসরণে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে কৌশলী হতে হবে, তবে কোনো অবস্থাতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও অনলাইন জিডিসহ সব ধরনের সেবা দ্রুততম সময়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন।