সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সাইফ হোসেন (১৬)। আজ সোমবার সকাল ১০টায় বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ের পরীক্ষায় সে উপস্থিত হয়।

ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের ছাত্র সাইফ হোসেন। সে সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল বাছেদের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, আবদুল বাছেদ (৫৪) স্থানীয় মাটিকাটা পুরাতন জামে মসজিদ (ছাতা মসজিদ) পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি পাসপোর্টের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করলে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেদিন সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ সোমবার ভোররাত পাঁচটার দিকে আবদুল বাছেদের লাশ বাড়িতে আনা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও আশপাশের গ্রাম থেকে স্বজন ও পরিচিতরা একনজর দেখতে সকাল থেকেই তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমান। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনেরা বুঝিয়ে সাইফকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠান।

বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব নজরুল ইসলাম জানান, এ অবস্থায় হলেও সাইফ অধিকাংশ সময় কান্না করতে করতেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ও আরেকজন শিক্ষক সাইফকে পরীক্ষা চলাকালে উৎসাহ ও সাহস জুগিয়েছি।’

পরীক্ষা শেষে সাইফ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। পরীক্ষায় অংশ নিলেও বারবার আব্বার কথাই মনে পড়ছিল।’

আবদুল বাছেদের চাচাতো ভাই ও ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী বলেন, আজ বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে মাটিকাটা পুরাতন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে আবদুল বাছেদকে মসজিদ–সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।