ভারতীয় সিনেমাকে অনেক স্মরণীয় গান উপহার দেওয়া অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান সম্প্রতি বলিউডে নিজের কাজ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত আট বছরে হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে তাঁর কাজের সুযোগের ওপর।
‘তাল’ পর্যন্ত নিজেকে বহিরাগতই মনে হতো রাহমান জানান, তামিল ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসা একজন সুরকার হিসেবে বলিউডে দীর্ঘদিন নিজেকে বহিরাগতই মনে হতো। তাঁর ভাষায়, ‘আসলে “রোজা”, “বম্বে”, “দিল সে...”—এ তিনটি ছবির পরও আমি নিজেকে আউটসাইডারই ভাবতাম; কিন্তু “তাল” একেবারে ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। বলা যায়, সেটি সবার রান্নাঘরেও ঢুকে পড়েছিল। আজও উত্তর ভারতের মানুষের রক্তে “তাল” মিশে আছে। কারণ, এতে পাঞ্জাবি, হিন্দি আর পাহাড়ি সুরের মিশেল রয়েছে। তামিল মানুষের জন্য হিন্দি বলা সহজ নয়, ভাষার সঙ্গে আমাদের আবেগময় টান অনেক।’
এ আর রাহমান স্মরণ করেন, পরিচালক সুভাষ ঘাই তাঁকে হিন্দি শেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পরই রাহমান উর্দু শেখার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, ষাট ও সত্তরের দশকের হিন্দি চলচ্চিত্রসংগীতের মূল ভাষা ছিল উর্দু। পরে উচ্চারণগত মিল থাকায় তিনি আরবি শেখেন এবং সুখবিন্দর সিংয়ের প্রভাবে পাঞ্জাবিতেও আগ্রহী হন।
‘গত আট বছরে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে’নব্বইয়ের দশকে বলিউডে তামিল শিল্পীদের প্রতি বৈষম্য ছিল কি না, এমন প্রশ্নে রাহমান বলেন, তখন তিনি সরাসরি এমন কিছু অনুভব করেননি। তবে সাম্প্রতিক সময় নিয়ে তাঁর মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
রাহমান বলেন, ‘হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাকে সেসব জানতে দেননি; কিন্তু গত আট বছরে মনে হয় একটা ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। এখন ক্ষমতায় আছেন এমন মানুষ, যারা সৃজনশীল নন। বিষয়টা হয়তো সাম্প্রদায়িকও হতে পারে… তবে সেটা আমার ওপর এসে পড়েনি। কানাঘুষা হিসেবে শুনি—আপনাকে নাকি বুক করা হয়েছিল; কিন্তু পরে মিউজিক কোম্পানি পাঁচজন সুরকার নিয়ে নেয়। আমি বলি, ভালোই হয়েছে। এতে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পাই।’
রাহমান আরও যোগ করেন, কাজের পেছনে ছোটাছুটি করতে তিনি আগ্রহী নন। বলেন, ‘আমি কাজ খুঁজতে চাই না। কাজ আমার কাছে আসুক—আমার সততা দিয়েই কাজ আসুক। আমি যতটুকু প্রাপ্য, ততটুকুই পাই’, বলেন রাহমান।
সামনে কী করছেন এ আর রাহমানআগামী দিনে রাহমানের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাজ মুক্তির অপেক্ষায়। তিনি সুর করেছেন বিজয় সেতুপতি অভিনীত ‘গান্ধী টকস’-এ। কিশোর পাণ্ডুরঙ্গ বেলেকারের পরিচালনায় ছবিটি প্রযোজনা করেছে জি স্টুডিওসসহ একাধিক সংস্থা। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন অরবিন্দ স্বামী, আদিতি রাও হায়দারি ও সিদ্ধার্থ জাধব। ৩০ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির।
এ ছাড়া নীতেশ তিওয়ারির বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ ছবির সংগীতেও কাজ করছেন এ আর রাহমান। এই প্রকল্পে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন গ্র্যামি–জয়ী সুরকার হ্যান্স জিমার। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী, সানি দেওল ও যশ অভিনীত ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ২০২৬ সালের দীপাবলিতে।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে






