চলচ্চিত্র নির্মাতা এ আর মুরুগাদোস ভোট ও রাজনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে তৈরি করেছেন ‘সরকার’ সিনেমা। এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন থালাপতি বিজয়, যিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছেন।

সিনেমায় বিজয় অভিনয় করেছেন করপোরেট জগতের সফল সিইও সুন্দর রামাসামির চরিত্রে। বিদেশ থেকে ভোট দিতে ভারতে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে কেউ দিয়ে দিয়েছে।

এই ঘটনা তাঁকে রাজনৈতিক দুর্নীতি, ভোট কারচুপি ও ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঠেলে দেয়। নিজের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য লড়াই শুরু করেন তিনি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুশাসনের দাবিতে বড় রাজনৈতিক সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন।

এটি মূলত রাজনৈতিক দুর্নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা এবং জনগণের ক্ষমতা নিয়ে গড়া একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন-ড্রামা।

অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। ২০২৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশকারী এই তারকা নাচ, অ্যাকশন ও কমেডি মিশিয়ে তামিল সিনেমায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে তাঁর সিনেমায় সবসময়ই ছিল আরেকটি স্তর—রাজনৈতিক বার্তা। সেটি খুব জোরালো বা বক্তৃতাধর্মী নয়, বরং সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপিত। তাঁর চরিত্রগুলো প্রায়ই সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে শক্তিশালী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়েছে। নিজের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের ভিডিও নিজেই ধারণ করলেন থালাপতি বিজয়।

আরও রাজনৈতিক সিনেমা

কাথথি
এক ছোটখাটো অপরাধী ঘটনাক্রমে কৃষকদের জন্য লড়াই করে এক সমাজকর্মীর জায়গা নেন। কৃষকদের পানির সংকট ও করপোরেট শোষণের বাস্তবতা জেনে তিনি তাঁদের পক্ষে দাঁড়ান। চলচ্চিত্রটি গ্রামীণ সংকট, কৃষি ও সামাজিক ন্যায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে।

মার্সাল
সিনেমাটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে তৈরি। এতে দেখানো হয়, দরিদ্র মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে কষ্ট পেলেও বেসরকারি হাসপাতাল লাভ করে যাচ্ছে। আবেগঘন দৃশ্য ও শক্তিশালী সংলাপের মাধ্যমে সিনেমাটি স্বাস্থ্যনীতি ও সরকারি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

থালাইভা
এক প্রবাসী তরুণের গল্প, যিনি বাবার মৃত্যুর পর নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হন। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তিনি জনগণের নেতা হয়ে ওঠেন। সিনেমাটি দেখায়, নেতৃত্ব কেবল পাওয়া যায় না, তা অর্জন করতে হয়।

মাস্টার
সিনেমায় এক কলেজ অধ্যাপক কিশোর সংশোধনাগারে গিয়ে দেখতে পান, অপরাধচক্র তরুণদের অপব্যবহার করছে। তিনি তাঁদের সঠিক পথে ফেরাতে লড়াই করেন। চলচ্চিত্রটি শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা দেয়।