বার্সেলোনা ২-০ রিয়াল মাদ্রিদ
লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছে। ক্যাম্প ন্যুতে হান্সি ফ্লিকের দল এই জয়ের মাধ্যমে লিগের ২৯তম শিরোপা ধরে রেখেছে।
এল ক্লাসিকো কখনোই সাধারণ ম্যাচ নয়, বিশেষ করে যখন এটি লিগ শিরোপা নির্ধারণ করে। লা লিগায় এমন ঘটনা বিরল—এর আগে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে ঘটেছিল। সেবার মৌসুমের শেষ দিনে রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনার সঙ্গে ড্র করে শিরোপা জিতেছিল। এবার ক্যাম্প ন্যুতে মৌসুমের শেষ ক্লাসিকোয় ড্র করলেই বার্সেলোনার শিরোপা নিশ্চিত হতো।
ঘরের মাঠে এ মৌসুমে লিগের সব ম্যাচ জিতে আসা বার্সেলোনা ১৮ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। রিয়াল গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া দুটি নিশ্চিত গোল বাঁচান এবং দু-তিনটি সুযোগ নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ের সঙ্গে বার্সেলোনার লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়।
হাতে তিনটি করে ম্যাচ রেখে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানীয় রিয়ালের ব্যবধান ১৪ পয়েন্ট। বার্সেলোনার সংগ্রহ ৩৫ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট, রিয়ালের সমান ম্যাচে ৭৭ পয়েন্ট। বার্সেলোনা বাকি তিন ম্যাচ হারলেও রিয়াল সব জিতলেও তাদের ধরতে পারবে না।
ক্যাম্প ন্যুতে ৬০ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন শিরোপা উৎসবের আমেজে। ৯ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ড ফ্রি কিক থেকে চোখ ধাঁধানো গোলে খেলা শুরু করেন। ৯ মিনিট পর দানি ওলমোর ব্যাক হিল থেকে ফেরানো বলে তোরেস দ্বিতীয় গোলটি করেন।
রিয়াল ম্যাচের বাকি সময়েও গুছিয়ে উঠতে পারেনি। গোটা ম্যাচে মাত্র ৮টি শট নিয়ে পোস্টে একটিই রাখতে পেরেছে। চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে না পাওয়া এক কারণ হতে পারে, তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও প্রত্যাশা পূরণ করেননি। বার্সেলোনার হাই লাইন ডিফেন্স ভিনিসিয়ুসকে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভাঙতে দেয়নি। দু-একবার ঢুকলেও গঞ্জালো গার্সিয়া বা জুড বেলিংহামের সঙ্গে সমন্বয় ছিলনি। ভিনি মেজাজ হারিয়ে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে তর্কেও জড়ান।
৬৩ মিনিটে জুড বেলিংহাম বল জালে পাঠালেও পাঁচজন অফসাইড ছিলেন। এমন মুহূর্ত ছাড়া রিয়ালের আক্রমণের তুলনায় কোর্তোয়া বেশি ব্যস্ত ছিলেন, পাঁচটি সেভ করেন। বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল গ্যালারি থেকে এ পরিস্থিতি উপভোগ করেন।
ইয়ামাল ছাড়াও রাফিনিয়া ও জুলস কুন্দে একাদশে ছিলেন না। তবু বার্সেলোনা ম্যাচজুড়ে দাপট দেখায়। সকালে বাবার মৃত্যুর খবর জেনেও ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন হান্সি ফ্লিক। এমন শোক সত্ত্বেও রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে ফ্লিকের দল। গোলকারী রাশফোর্ড ও তোরেস ফ্লিকের কাছে ছুটে যান।
খেলা শেষে লামিনে ইয়ামাল বার্সেলোনার জার্সি পরে মাঠে নামেন। সতীর্থদের সঙ্গে উৎসব শুরু হয়। লিগ ট্রফির মিনিয়েচার নিয়ে ফ্লিকের সঙ্গে উদযাপন করেন রাফিনিয়া-ইয়ামালরা। পরে দলীয়ভাবে ট্রফি তুলে গ্যালারি থেকে ‘চ্যাম্পিয়নস, চ্যাম্পিয়নস’ ধ্বনি ওঠে।
রিয়াল এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিহীন থাকে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কোচ পদে পরিবর্তন নিশ্চিত। গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে ঘরোয়া ট্রেবল জিতিয়ে এবার লিগ ও স্প্যানিশ সুপার কোপা জিতিয়েছেন ফ্লিক। লিগে ঘরে ১৮ ম্যাচ সব জিতে সব মিলিয়ে মাত্র চার ম্যাচে হেরেছে তার দল। ফ্লিকের অধীনে দুই মৌসুমে এটি বার্সেলোনার পঞ্চম শিরোপা।






