ব্রিটিশ অভিনেত্রী আনা ম্যাক্সওয়েলের আজ জন্মদিন। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জোরে তিনি ব্রিটিশ অভিনয়জগতে এক শক্তিশালী নাম হয়ে উঠেছেন। ব্যক্তিগত শোক, পেশাগত অনিশ্চয়তা এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতি পার হয়ে তিনি ভক্তদের কাছে প্রিয় হয়ে আছেন।

১৯৭৭ সালের ১০ মে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের বেভারলিতে জন্ম নেন আনা। ছোটবেলায় তাঁর নাম ছিল আনা শার্লট মার্টিন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি লন্ডন একাডেমি অব মিউজিক ড্রামাটিক আর্টে (ল্যামডা) ভর্তি হন। অভিনয়জগতে ‘আনা মার্টিন’ নামে আগে থেকেই একজন ছিলেন বলে তিনি নিজের নামে ‘ম্যাক্সওয়েল’ যুক্ত করেন।

২০০৩ সালে মঞ্চনাটকে অভিনয় করে আনা আলোচনায় আসেন। দীর্ঘদিন তারা কোনো অভিনয়ের সুযোগ পাননি। পরে ‘ব্লিক হাউস’ সিরিজে এসথার সামারসন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ডাক পড়ে। এই সিরিজের জন্য ২০০৬ সালে তিনি প্রথম ব্রিটিশ একাডেমি টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড (বাফটা) জেতেন। ২০০৮ সালে ‘পপ্পি শেক্সপিয়রে’ অভিনয় করে দ্বিতীয়বার একই পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর তাঁর অভিনয় নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়।

আনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল চলচ্চিত্র পরিচালক রগার মিশেলের সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের পর ২০২১ সালে রগার মারা যান। তাঁর দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ব্যক্তিগত শোক সত্ত্বেও তিনি অভিনয় চালিয়ে যান। ২০২৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল এমি অ্যাওয়ার্ডস ‘টিল আই কিল ইউ’–এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন।

তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে নানা কথা শোনা যেত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমাকে প্রায়ই বলা হয়, আমি নাকি প্রচলিত অর্থে সুন্দরী নই। তাই এমন চরিত্রে অভিনয় করতে ভালো লাগে, যেখানে বাহ্যিক চাকচিক্যের কোনো গুরুত্ব নেই।”

১৯৭৭ সালের ১০ মে জন্মগ্রহণকারী আনা ম্যাক্সওয়েল আজ ৪৯ বছর বয়সে পৌঁছেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, অভিনয়ে স্থায়ী সাফল্যের জন্য প্রচলিত সৌন্দর্যের চেয়ে প্রতিভা, অধ্যবসায় ও মানসিক দৃঢ়তাই বেশি জরুরি।
তথ্য: আইএমডিবি, দ্য স্ট্রিট ডটকম