আজান আওয়াইস সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর দীর্ঘ উদযাপন করেছেন। ধারাবাহিক কমেন্ট্রিতে তখন রমিজ রাজা বলতে শুরু করলেন, ‘পুরো ইনিংসে এই প্রথম তাঁকে একটু আবেগপ্রবণ হতে দেখলাম, ইনিংসজুড়েই সে ছিল ভীষণ শান্ত…’

আসলেই তাই। গতকাল মধ্যাহ্নভোজের পর ইমাম উল হকের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন আজান। ৪ ঘণ্টা ৫ মিনিটের দীর্ঘ ইনিংস জুড়ে তিনি কখনো খেই হারাননি। গতকাল বিকেলে নাহিদ রানার প্রথম বলেই তাঁর হেলমেটে লেগেছিল। সেই আঘাতে কনকাশন পরীক্ষায় মিনিট পাঁচেক লেগে যায়।

তবু ভয় পাননি। নাহিদ, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেনের গতি সামলানোর পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ বা তাইজুল ইসলামকেও সুযোগ দেননি। ৮৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করার পর আজ পাঁচ ওভারের মধ্যেই বাকি ১৫ রান করে সেঞ্চুরি করেছেন আজান। ১৫৩ বলে সেঞ্চুরির পথে ছিল ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ১৬৫ বলে ১০৩ রান করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতির তিন অঙ্ক ছোঁয়ার অভ্যাস ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালোভাবে রয়েছে। প্রথম শ্রেণির ৩৩ ম্যাচে ১০ সেঞ্চুরি এবং ডাবল সেঞ্চুরিও আছে। ঘরোয়া ফর্মই তাঁকে জাতীয় দলে স্থান করে দেয়।

এবারও প্রথম ম্যাচেই ছাপ রেখেছেন। ৭৪ বছর আর ৪৬৮ ম্যাচের পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে ১৫ জন ব্যাটসম্যান অভিষেকে সেঞ্চুরি করলেন। ওপেনার হিসেবে সেঞ্চুরি করা সপ্তম ব্যাটসম্যান আজান।

পাকিস্তানের হয়ে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা অন্যরা হলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ (১৯৬৮ সাল), জাভেদ মিয়াঁদাদ (১৯৭৬), সেলিম মালিক (১৯৮২), মোহাম্মদ ওয়াসিম (১৯৯৬), আলী নাকভি (১৯৯৭), আজহার মেহমুদ (১৯৯৭), ইউনিস খান (২০০০), তৌফিক উমর (২০০১), ইয়াসির হামিদ (২০০৩), ফাওয়াদ আলম (২০০৯), উমর আকমল (২০০৯), আবিদ আলী (২০১৯), কামরান গুলাম (২০২৪)।

এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে আজানের আগে দুজন সেঞ্চুরি করেছেন। ২০০১ সালে মুলতান টেস্টে তৌফিক উমর অভিষেকে ১০৪ রান করেন। দুই বছর পর করাচিতে ইয়াসির হামিদ দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন—প্রথমে ১৭০, পরে ১০৫। তৌফিক ও ইয়াসির সেঞ্চুরি করা দুই ম্যাচেই পাকিস্তান জয়ী হয়। এবার কি বাংলাদেশ ফলাফল ওলটাতে পারবে?