তামিলনাড়ুতে তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) দলের নেতা থালাপতি বিজয় আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কংগ্রেস, স্থানীয় দল ভিসিকে এবং বামপন্থী দুই দল সিপিআই ও সিপিএম-এর সমর্থনে তারা সরকার গঠন করছে। চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে চার দিন ধরে চলা সরকার গঠন নিয়ে নাটকীয়তার সমাপ্তি ঘটেছে। সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া—বিজয়ের জীবন যেন সিনেমারই মতো নাটকীয়।
শিশুকাল থেকেই সিনেমার জগতে
বিজয় জন্ম থেকেই চলচ্চিত্রের পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন জনপ্রিয় তামিল নির্মাতা। ১৯৮৪ সালের তাঁর পরিচালিত ছবি ‘ভেটরি’তে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে বিজয় চলচ্চিত্রজগতে অভিষেক করেন।
এক সাক্ষাৎকারে এস এ চন্দ্রশেখর জানিয়েছিলেন, সেই ছবিতে অভিনয়ের জন্য বিজয়কে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫০০ রুপি। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, একদিন এই শিশুশিল্পীই দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন হয়ে উঠবেন।
চন্দ্রশেখর আরও দাবি করেন, বহু আগেই তাঁর ছেলে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি একদিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হব।’
৫০০ টাকা থেকে ২২০ কোটি
বর্তমানে বিজয়ের পারিশ্রমিক নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তাঁর শেষ ছবি হিসেবে প্রচারিত ‘জন নায়গন’-এর জন্য তিনি প্রায় ২২০ কোটি রুপি নিয়েছেন।
অর্থাৎ ৫০০ টাকা থেকে ২২০ কোটি—পারিশ্রমিকের এই বৃদ্ধি প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ শতাংশের বেশি। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন উত্থান খুব কম অভিনেতার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।
‘ঘিল্লি’ যে মোড় ঘুরিয়ে দেয়
১৯৯০-এর দশকে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়লেও ২০০৪ সালের ব্লকবাস্টার ‘ঘিল্লি’ বিজয়ের ক্যারিয়ারের দিক পরিবর্তন করে। ছবিটি তাঁকে সাধারণ দর্শকের কাছে ‘মাস হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তারপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি দেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘কোকিরি’, ‘কাভালান’, ‘নানবান’, ‘থুকাক্কি’, ‘মারসেল’, ‘সককার’ ও ‘বিগিল’।
প্যান-ইন্ডিয়া ছাড়াই সুপারস্টার
অন্য তারকারা প্যান-ইন্ডিয়া ছবির দিকে ঝুঁকলেও বিজয় মূলত তামিল ছবিতেই অভিনয় করে গেছেন। তবু তাঁর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি।
‘লিও’ বিশ্বজুড়ে ৬০০ কোটির বেশি আয় করেছিল। এরপর ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ বিশ্বব্যাপী ৪০০ কোটির বেশি ব্যবসা করে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে বিজয়ের দর্শক টানার ক্ষমতা কতটা বিশাল।
সিনেমা ছেড়ে রাজনীতিতে
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে বিজয় ঘোষণা দেন, রাজনীতিতে পূর্ণ সময় দিতে সিনেমা থেকে সরে যাবেন। তাই ‘জন নায়গন’-কে তাঁর শেষ ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভক্তদের কাছে এটি আবেগঘন। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় তামিল সিনেমার অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, আগামী ২২ জুন বিজয়ের জন্মদিনে ‘জন নায়গন’ মুক্তি পাবে।
ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে






