‘দোকানে ক্রেতাসহ আমরা ছয়জন বসা ছিলাম। হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয়। তাকাতেই দেখি, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া একটি বাস যাত্রীসহ আমার দোকানে ঢুকে পড়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানের সামনের অংশ গুঁড়িয়ে চলে যায় বাসটি। এরপর একটি বড় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।’

কথাগুলো বলছিলেন রিয়াজ উদ্দিন। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফোর সিজন এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাঁর কুলিং কর্নার রয়েছে। এখানে আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। তাঁদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

আজ দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পশ্চিম পাশেই রিয়াজ উদ্দিনের দোকান। তাঁর দোকানের পাশেই দুটি গাছের সঙ্গে দুটি বাস আটকে রয়েছে। দুর্ঘটনায় বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। উৎসুক জনতা, সাংবাদিক ও পুলিশ সেখানে ভিড় করেছে। তবে ততক্ষণে হতাহত ব্যক্তিদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালামাল সরাচ্ছিলেন। তিনিসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মারছা পরিবহনের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী বাস দুটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। মহাসড়কের বাঁকে এসে দুটি বাসই নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পূর্ব পাশে থাকা একটি গাছে ধাক্কা খায়। অন্য বাসটি মহাসড়কের পশ্চিম পাশে রিয়াজের দোকানে ঢুকে যায়।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দোকানে বসা ক্রেতারা ভেতরে ছিলেন। মাত্র ৫ ফুট দূরত্বে অবস্থান করায় তাঁদের কেউ হতাহত হননি। তবে দুটি ফ্রিজসহ তাঁর কয়েক লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে।

বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ছয়জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সেখান থেকে আহত পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে পথে দুজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে মারছা পরিবহনের বাস মহাসড়কে চলাচল বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন। তবে ২০ মিনিট পর তাঁদের সরিয়ে দেয় লোহাগাড়া থানার পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া যাত্রীর নাম রেহেনা বেগম। তিনি পটিয়া উপজেলার বদিউল আলমের স্ত্রী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে নাঈম জিহাদের। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহে। নিহত অপর দুজন হলেন মো. নাঈম ও মো. মনির। তাঁদের মধ্যে নাঈমের বাড়ি ঝিনাইদহ ও মনিরের বাড়ি ভোলায়।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ফিরোজ খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি লাশ উদ্ধার করি। ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে ফায়ার সার্ভিস।’

লোহাগাড়ার চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্বাস আলী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুর্ঘটনায় ২০-২৫ জনের বেশি যাত্রী আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করেছেন।