কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক হুমকির মুখে ময়মনসিংহে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এএনএম আয়াসকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আল বাদশা জানান, রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে সংগঠনের কাজে জেলার ভালুকায় গেলে ১৫ থেকে ২০ জন ‘দুর্বৃত্ত’ তার ওপর হামলা চালায়। বর্তমানে আয়াস একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে এএনএম আয়াস মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে ভালুকার একটি সড়কে হঠাৎ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং এতে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশের একটি টহল দল তাকে উদ্ধার করে।
ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঢাকা থেকে ফোনে তিনি আয়াসের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে টহল পুলিশ দলকে তিনি বিষয়টি অবগত করেন। আয়াসের সন্ধান পাওয়ার পর আহত অবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এর আগে, ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ফুল দিতে এলে তাদের মারধর ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আয়াসের বিরুদ্ধে। এরপর দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিমুহূর্তে ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছিলেন বলে জানান আয়াস।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জনৈক শান্তা ফারজানা ও তার স্বামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী আয়াসের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, জুলাই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি আন্দোলন’ এবং শহীদ আবু সাঈদকে ‘মাদকাসক্ত ও নেশাখোর’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগে এ দুজনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে, জুলাই শহীদদের অবমাননা এবং বিএনপি সরকারকে উৎখাতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে এর আগে শান্তা ফারজানার অফিসে গিয়ে তাকে চড় মারেন জুলাই যোদ্ধা আয়াস।